সাইবার হামলা, ড্রোন প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনার পাশাপাশি দেশেই ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সমুদ্রে নজরদারি ও পরিস্থিতিগত সচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মহিলা আসন-২-এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয়ভাবে ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, সমুদ্রে নজরদারি ও পরিস্থিতিগত সচেতনতা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে বলেও সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী।
মহিলা আসন-১০-এর সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সময়ে দেশের সার্বিক নিরাপত্তায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়।’
এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা ‘ইনস্ট্রাকশন রিগার্ডিং ইন এইড টু দ্য সিভিল’-এর আওতায় বিভিন্ন দুর্যোগ ও ক্রান্তিকালে অসামরিক প্রশাসনকে সরাসরি সহায়তা করে সশস্ত্র বাহিনী।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮-এর ১২৯ ধারার আওতায় সশস্ত্র বাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি এবং আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে আইনি ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব দেওয়া হয়।
সরকারের এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো নতুন ক্ষেত্রেও দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।