রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকার সেনপাড়া পর্বতা অঞ্চলে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দ্রুতগামী একটি অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় শামীম (৪৭) নামের ঢাকা ওয়াসার এক কর্মচারী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় ২৫ বছর ধরে ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জোনে সুনামের সঙ্গে চাকরি করে আসা এই কর্মীর আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ভোরে শামীম বরাবরের মতো তার নিজ কর্মস্থল সেনপাড়া ও সংলগ্ন পানির পাম্প এলাকায় ওয়াসার দাপ্তরিক ও মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন। সকালের দিকে রাস্তা পারাপার বা কাজের তদারকি করার সময় একটি দ্রুতগামী অজ্ঞাতনামা যান তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় পথচারী ও সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে কাফরুল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশ সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই ঘটনায় ঘাতক গাড়িটি এবং এর চালককে শনাক্ত করতে পুলিশ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ শুরু করেছে। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহত শামীমের গ্রামের বাড়ি পাবনার বেড়া উপজেলার পাইখন্দ বারাদিয়া গ্রামে। কর্মজীবনে দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে ঢাকা ওয়াসায় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। রাজধানীতে তার এই আকস্মিক ও ট্র্যাজিক মৃত্যুর খবর তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে শোকের আবহ তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ভোরের দিকে ট্রাফিকের উপস্থিতি কম থাকায় অধিকাংশ ভারী ও দ্রুতগামী যানবাহন নির্ধারিত গতির চেয়ে অনেক বেশি গতিতে চলাচল করে। এর ফলে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ট্রাফিক কর্মী এবং বিভিন্ন ইউটিলিটি সার্ভিসের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা প্রায়শই মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, ডেসা বা ওয়াপদার মতো সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের যেসব মাঠকর্মী ভোরের আলো ফোটার আগেই রাস্তায় নেমে কাজ শুরু করেন, তাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও সচেতনতার অভাব রয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো না হলে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, দায়িত্ব পালনকালে মাঠপর্যায়ের সরকারি ও আধা-সরকারি কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত হাই-ভিসিবিলিটি ভেস্ট এবং সাইনবোর্ড ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আরও কঠোরভাবে তদারকি করা প্রয়োজন।