আইন আদালত ডেস্ক
মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায়ের দিন পিছিয়ে আগামী সোমবার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নতুন দিন ধার্য করেন। এর আগে মঙ্গলবার এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত ছিল। আদালতের কার্যতালিকা অনুযায়ী কার্যক্রমের শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানির জন্য সময় প্রার্থনা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা আদালতকে জানান যে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল নিজে শুনানি পরিচালনা করেছেন এবং তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং রায়ের জন্য আগামী সোমবার পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত বছরের ৫ মার্চ মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় রমজানের ছুটিতে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে শিশু আছিয়া পৈশাচিক নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হয়। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর আঘাত করেন। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহতের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনকে আসামি করে মাগুরা সদর থানায় একটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্ত শেষে পুলিশ গত বছরের ১৩ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২৩ এপ্রিল আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু করেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় মাত্র ১৩ কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান গত বছরের ১৭ মে এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মূল আসামি হিটু শেখকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। তবে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ছোট ভাই এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম—এই তিনজনকে খালাস প্রদান করেন আদালত।
আইন অনুযায়ী কোনো বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলে সেই রায় কার্যকর করার পূর্বে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন বা ডেথ রেফারেন্সের প্রয়োজন হয়। সেই আইনি প্রক্রিয়া অনুসuring গত বছরের ২১ মে মামলার যাবতীয় নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পেপারবুক প্রস্তুত করা হয় এবং ৮ জুন তা হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের নির্ধারিত বিশেষ বেঞ্চের কার্যতালিকাভুক্ত করা হয় এবং শুনানি শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণকে কেন্দ্র করে বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আইনি নজরদারি রয়েছে। আইনি বিশ্লেষকদের মতে, ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের এই চূড়ান্ত রায় নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা দূর করে দ্রুত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।