বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়ে নিজের কাজটা সেরে ফেলেছে স্পেন। এখন ফুটবলপ্রেমীদের বহুল প্রতীক্ষিত এক লড়াইয়ের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আর্জেন্টিনার কাঁধে। ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেই বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা, যা অনেকের কাছেই ‘হারিয়ে যাওয়া ফাইনালিসিমার’ নতুন সংস্করণ।
ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে স্পেন প্রথম দল হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। এরপর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল। কারণ এই ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করবে ফুটবল বিশ্ব সেই কাঙ্ক্ষিত স্পেন-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ দেখতে পাবে কি না।
মূলত চলতি বছরের মার্চে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মধ্যে ফাইনালিসিমা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি ম্যাচটি। ফলে দুই মহাদেশের সেরা দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ম্যাচটি আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল কাতারের দোহায়। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সেই আয়োজন বাতিল হয়ে যায়। পরে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের একটি স্টেডিয়ামের প্রস্তাব এলেও তা মেনে নেয়নি আর্জেন্টিনা। তাদের দাবি ছিল, প্রতিপক্ষের দেশে এমন শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ আয়োজন হলে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান না পাওয়ায় ম্যাচটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।
ফলে যে লড়াইটি হওয়ার কথা ছিল আলাদা একটি প্রতিযোগিতায়, সেটি এখন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে তার আগে আর্জেন্টিনাকে পার হতে হবে ইংল্যান্ড বাধা। শক্তিশালী ইংলিশদের হারাতে পারলেই লিওনেল মেসির দল পৌঁছে যাবে ফাইনালে এবং ফুটবলপ্রেমীরা উপহার পাবে বহুদিনের প্রতীক্ষিত এক মহারণ।
একদিকে টানা সাফল্যে উড়তে থাকা স্পেন, অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে থাকা আর্জেন্টিনা। দুই মহাদেশের বর্তমান সেরা দুই দলের এই সম্ভাব্য লড়াইকে ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের ‘স্বপ্নের ফাইনাল’ হিসেবে আখ্যা দিতে শুরু করেছেন অনেকেই।
এখন সব নজর আটলান্টার সেমিফাইনালে। স্পেন তার কাজ শেষ করেছে। বিশ্বকাপের ফাইনালে হারিয়ে যাওয়া ফাইনালিসিমার মঞ্চ তৈরি হবে কি না, তার উত্তর লুকিয়ে আছে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্সে।
সূত্র : মার্কা