ইরানের মাহশাহরে কৃষি সেচের পাম্পকেন্দ্রে হামলা হয়েছে। দেশটির খুজেস্তান প্রদেশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেন্দ্রটিতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ বস্তুর আঘাতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চার ব্যক্তি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর খবরে এ কথা বলা হয়।
প্রদেশটির নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ভালিউল্লাহ হায়াতি বলেন, আজ সোমবার দিনের প্রথম প্রহরে এ হামলা হয়। নিহত ব্যক্তি পাম্পকেন্দ্রটির নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। আহত ব্যক্তিদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে জরুরি সেবা ও চিকিৎসক দল।
ভালিউল্লাহ হায়াতি দেশটির আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএকে বলেন, বিগত কয়েক ঘণ্টায় খুজেস্তান প্রদেশের অন্তত আটটি স্থানে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সময় দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিট থেকে ২টা ২০ মিনিটের মধ্যে কয়েক দফায় এসব হামলা হয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স আল-জাজিরাকে বলেছেন, গত এক ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান এখন পর্যন্ত একটি ইরানি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানিয়েছে, আগের রাতে প্রায় ১৪০টি হামলা চালানোর পর রোববার রাত ৯টায় (জিএমটি) মার্কিন বাহিনী আবার হামলা শুরু করে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এসব হামলা হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালির কাছের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও ইরাক সীমান্তবর্তী খুজেস্তান প্রদেশ।
আইআরএনএ জানিয়েছে, গত এক ঘণ্টায় বন্দর আব্বাসে অন্তত দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে গতকাল রোববার ব্যাপক হামলা চালায় ইরান। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। তবে রোববারের হামলার পরিধি আগের চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। মার্কিন ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে একের পর এক আঘাত হানছে ইরান। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিধিনিষেধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে।