1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৪:১৭ অপরাহ্ন

শিবির নেতা জিসানের পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ২৮ Time View

ধর্ষণ ও ভ্রুণ নষ্টের অভিযোগে করা মামলায় কারাগারে যাওয়া ছাত্রশিবিরের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা জিসান মিয়া প্রধানের পক্ষে দাঁড়ানো দুই আইনজীবীর সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) নিয়োগ বাতিল করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ মে) আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাদের পদ বাতিল করা হয়।

পদ হারানো দুই আইনজীবী হলেন, কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী এবং অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম। তারা উভয়ে শিবির নেতা জিসানের পক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেছেন।

কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু ঢাকা পোস্টকে এ আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, উপর্যুক্ত বিষয়ে নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, এ অনুবিভাগের গত ২৯-১০-২০২৪ তারিখের নং-সলিসিটর/জিপি-পিপি (কুমিল্লা) ২৫/২০২৪ (অংশ-ক) -১৫১ সংখ্যক স্মারকমূলে কুমিল্লা জেলার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত (১) মনির হোসেন পাটোয়ারী, পিতা: মৃত আইয়ুব আলী ও (২) সাইদুল ইসলাম, পিতা: মৃত আলী আশ্রাফ এর নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো। এ আদেশ অনতিবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

পাবলিক প্রসিকিউটর কাইমুল হক রিংকু ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাকে কিছুক্ষণ আগে আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ আদেশের কপি পাঠানো হয়েছে। তারা উভয়ে সরকারি আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হয়ে রাষ্ট্রের বিপক্ষে আসামির পক্ষে কেউ যেতে পারে না।

এ বিষয়ে কুমিল্লা নারী ও শিশু আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আইন মন্ত্রণালয় চাইলে যেকোনো সময় যে কারো নিয়োগ বাতিল করতে পারে। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি যে দুজন এপিপির নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে সে দুইজন আইনজীবী আসামির পক্ষে ওকালতনামা নেননি। তারা আসামি জিসানের পক্ষে আদালতের সামনে থেকে সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফ করেছেন। এছাড়া জিসানের পক্ষে ওকালতি করেছেন তার নিজের ভাই। এ দুজন পক্ষ নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেছেন।

পদ হারানো এপিপি মনির হোসেন পাটোয়ারী ও সাইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।

প্রসঙ্গত, গত ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) রাতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা পশ্চিম অঞ্চলের সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরদিন এ বিষয়ে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় দাউদকান্দি মডেল থানায়। ডায়েরি করার দিন রাত ৮টা-৯টার দিকে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী বাদি হয়ে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই নারী উল্লেখ করেন, গত ৫-৬ মাস আগে শিবির নেতা জিসানের সঙ্গে ওই নারীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে দুইজন প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। গত ২০ মে শিবির নেতা জিসান তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় নিয়ে ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জিসান বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবকে দিয়ে বাচ্চা নষ্ট করার ওষুধ পাঠান। ওই নারীর রক্তক্ষরণ শুরু হলে তা পুনরায় সজীবকে জানান তিনি। জিসান সজীবকে দিয়ে পুনরায় ওষুধ পাঠান। পরে ওই নারী সুস্থ হয়ে উঠে জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

গত শুক্রবার (১২ জুন) উভয়ের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে সেই বিয়ে থেকে বিরত থাকতেই নিখোঁজের নাটক সাজান শিবির নেতা জিসান। শনিবার (১৩ জুন) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

১৬ জুন বিকেলে জিসানকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ