কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে আহত বশির উদ্দিন (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত আবু রশিদের দুইটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের অন্তত ৬ সদস্য আহত হয়েছেন। নিহত বশির উদ্দিন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বৈদ্দেরখিল গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে। তিনি পেশায় নির্মাণ শ্রমিক এবং তিন সন্তানের জনক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল রাতে বৈদ্দেরখিল গ্রামে মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আবু রশিদ ও নাদিরের পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় নাদিরের পক্ষের লোকজন আবু রশিদকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে আবু রশিদের দুই ছেলে আসিফ ও পারভেজ তাদের লোকজন নিয়ে পাল্টা হামলা চালালে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়। এতে বশির উদ্দিন গুরুতর আহত হন। হামলার সময় তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত করা হয়।
পরে আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় বশির ও আবু রশিদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বশির মারা যান।
তার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভোররাতে বিক্ষুব্ধ জনতা আবু রশিদের দুইটি বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ৬ পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বশির হামলার শিকার হন। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে ঢাকায় অস্ত্রোপচার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বৈদ্দেরখিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা চলছে। এ ঘটনায় জড়িত দুই পক্ষই মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেছেন তারা।
চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষই পৃথক মামলা দায়ের করেছে। আহত বশিরের মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।