বর্তমান ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন পিএসজির বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে শুরুতে ম্যাচে ফেরার আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো চেলসিকে। আর দুই লেগ মিলিয়ে ফল দাঁড়ায় ৮-২! নিজেদের ইতিহাসে দুই লেগ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত এত বড় পরাজয়ের স্বাদ আগে কখনো পায়নি ব্লুজরা। এতে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয়ে গেছে ফরাসি জায়ান্টদের।
চেলসির মাঠে মঙ্গলবার রাতে ৩-০ ব্যবধানে জয় পায় লুইস এনরিকের দল।
প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় পিএসজি। গোল করেন খাভিচা কাভারাস্খেইয়া ও ব্র্যাডলি বারকোলা। বিরতির পর ব্যবধান বাড়ান তরুণ সেনি মায়ুলু।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ইতিবাচকই ছিল চেলসির।
আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকে তারা। তবে প্রথম সুযোগেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় পিএসজি। ষষ্ঠ মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন কাভারাস্খেইয়া। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ফ্রি-কিক ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন ডিফেন্ডার মামাদু সার।
সেই ভুল থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন জর্জিয়ান তারকা।
প্রথম ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আবারও আঘাত হানে পিএসজি। ১৪তম মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ডান প্রান্ত দিয়ে উঠে আসেন আশরাফ হাকিমি। তার পাস থেকে গতিময় শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বারকোলা।
দুই লেগ মিলিয়ে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি চেলসি।
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে একের পর এক আক্রমণে চাপ সৃষ্টি করে তারা। কিন্তু পিএসজির শক্ত রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় বারবার ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন বারকোলা। ৫৯তম মিনিটে তার বদলি হিসেবে নামেন দিজিরে দুয়ে। ম্যাচে পরিবর্তন আনতে চেলসি কোচ তুলে নেন কোল পামার, এনজো ফার্নান্দেস ও জোয়াও পেদ্রোকে।
তবে আক্রমণ চালিয়েও ফল পায়নি চেলসি। উল্টো ৬২তম মিনিটে ব্যবধান আরো বাড়ায় পিএসজি। দারুণ ফিনিশিংয়ে নিজের নাম লেখান মায়ুলু। এতে দুই লেগ মিলিয়ে চেলসির বিপক্ষে পিএসজির গোলসংখ্যা দাঁড়ায় আটে। যে কোনো প্রতিযোগিতায় যা ইংলিশ ক্লাবটির বিপক্ষে সর্বোচ্চ। এর আগে বায়ার্ন মিউনিখ করেছিল ৭ গোল।
শেষ দিকে ব্যবধান কমানোর মরিয়া চেষ্টা চালায় চেলসি। তবে আলেহান্দ্রো গার্নাচো ও লিয়াম ডেলাপের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে আর ম্যাচের ফলে কোন পরিবর্তন আসেনি।
এই জয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে এখন গালাতাসারাই অথবা লিভারপুলের অপেক্ষায় আছে পিএসজি।