বন্দরনগরী চট্টগ্রামে উৎসবমুখর ও শান্তিপুর্ণ পরিবেশে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটারদের দুই ব্যালটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে কেন্দ্র থেকে হাসিমুখে বের হতে দেখা গেছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের ১ হাজার ৯৬৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।
ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দিচ্ছেন—সাদা ব্যালটে সংসদ সদস্য নির্বাচন এবং গোলাপি ব্যালটে গণভোট।
বৃহস্পতিবার সকালে নগরের বহদ্দারহাট, চকবাজার, কোতোয়ালী, বাকলিয়া থানা এলাকার একাধিক কেন্দ্রে নারী ও পুরুষ ভোটারের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। পশ্চিম বাকলিয়া ডিসি রোড, দেওয়ান বাজার, সানরাইজ কেজি অ্যান্ড হাইস্কুল, কাজেম আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ডা.খাস্তগীর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই পুরুষের পাশাপাশি নারী ভোটাররা আলাদা লাইনে দাঁড়িয়েছেন ভোট দিতে।
নির্ধারিত সময়ে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে চট্টগ্রামের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘যথাসময়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। নিরাপদভাবে ভোটগ্রহণ শেষ করতে আমাদের সব রকমের প্রস্তুতি রয়েছে। জনগণকে বলব, আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন, নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।’
চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে এবার ১১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নগরী ও ১৫টি উপজেলা মিলিয়ে ১২ হাজার ১টি ভোটকক্ষে ভোট গ্রহণ চলছে।
চট্টগ্রামে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ জন এবং নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৭০ জন।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, ‘দুর্গম বা যাতায়াত ব্যবস্থা সংকটাপন্ন এলাকার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অবস্থান ও পরিবেশ বিবেচনা করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর খবর পাওয়া মাত্র ২-৪ মিনিটের মধ্যে স্ট্রাইকিং ফোর্স সেখানে পৌঁছাতে পারবে।
মোতায়েন রয়েছে বিভিন্ন বাহিনী । প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৩ থেকে ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এতে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি টহলে রয়েছে র্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড। এছাড়া সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও নির্বাচনী মাঠে মোতায়েন রয়েছেু সেনাবাহিনী।