১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর এই প্রথম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে সৈন্য পাঠানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলজেরিয়া। নাইজারে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নিজেদের কৌশলগত অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে আলজেরিয়ার সংসদ এই নতুন সামরিক মোতায়েনের পক্ষে অনুমোদন দিয়েছে।
তবে কখন এবং কতজন সৈন্য মোতায়েন করা হবে তা ঘোষণা করা হয়নি।
রবিবার আলজেরিয়ার সংসদের উচ্চকক্ষে এ বিষয়ে একটি জরুরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭৪ জন সিনেটরের মধ্যে ১৪৮ জনই সেনা পাঠানোর পক্ষে ভোট দেন। পরবর্তীতে সংসদের নিম্নকক্ষও প্রস্তাবটিকে সমর্থন জানায়।
এর মাধ্যমে ২০২০ সালের সাংবিধানিক বিধানের প্রথম প্রয়োগ ঘটল, যা বিদেশে সামরিক বাহিনী পাঠানোর অনুমতি দেয়। এর মধ্য দিয়ে বিদেশে সৈন্য না পাঠানোর আলজেরিয়ার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এল।
সাম্প্রতিক সময়ে নাইজারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আলজেরিয়া সফরের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে আলজেরিয়ার সহায়তা চেয়েছে নাইজার।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সেনা মোতায়েনের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে অর্থনৈতিক স্বার্থের। নাইজারের মধ্য দিয়ে নাইজেরিয়ার গ্যাস আলজেরিয়ায় নেওয়ার একটি মেগা পাইপলাইন প্রকল্প রয়েছে। এ ছাড়া লিবিয়া সীমান্তের কাছে উত্তর নাইজারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো সুরক্ষায় এই সৈন্যরা নিয়োজিত থাকবে। সম্প্রতি আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি ‘সোনাট্রাক’ নাইজারের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের সাথে তেল অনুসন্ধানের চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কূপগুলোতে ২৬ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে।
ভোটগ্রহণের পর আলজেরীয় সিনেটর বেলকাসেম বুলঘিতি সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা নাইজারে যুদ্ধ করতে আমাদের সৈন্যদের পাঠাচ্ছি না, বরং দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো সুরক্ষিত করার একটি মিশনে পাঠাচ্ছি।’ তবে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কতজন সৈন্য পাঠানো হবে বা কবে নাগাদ তারা দেশ ছাড়বেন, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, বিগত বছরগুলোতে আলজেরিয়া ও নাইজারের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন ছিল। ২০২৩ সালে নাইজারে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছিল আলজেরিয়া। এরপর ২০২৫ সালে আলজেরীয় সীমান্তে মালির একটি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরে এবং নাইজার আলজেরিয়া থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয়।
তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য বরফ গলেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাইজারের সেনাশাসক আবদুরাহমানে চিয়ানি আলজেরিয়া সফর করেন এবং গত আগস্টের শেষের দিকে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি আবদেলমাজিদ তেব্বুন নাইজারে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা দমনে যুদ্ধবিমান ও সামরিক হেলিকপ্টার পাঠিয়ে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করেন।