1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

হৃদয়ের ইতিহাস গড়া ইনিংসে তৃতীয় দিন বাংলাদেশের

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
  • ১৬ Time View

ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারছেন না ব্যাটাররা। একের পর এক নিদারুণ ব্যাটিং ব্যর্থতা উপহার দিয়ে চলছেন তারা। এতে ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছিল বাংলাদেশ। সেখানে নিঃসঙ্গ সেপাইয়ের মতো লড়াই করলেন তাওহিদ হৃদয়। নিজের দ্বিতীয় টেস্টেই হৃদয় জয় করা ব্যাটিং করলেন তিনি। ডানহাতি এই ব্যাটারের বিরোচিত ব্যাটিংয়ে লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে বোলিংয়ে নেমে চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। তবে কোনো উইকেট পায়নি। তবুও তৃতীয় দিনটা নিজেদের করে নিয়েই দিনশেষ করেছে বাংলাদেশ।

আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ ওভার ব্যাট করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭ রান করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এখন তারা পিছিয়ে আছে ২৩ রানে। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৮৯ রান করেছিল বাংলাদেশ। ফলে ৩০ রানের লিড পেয়েছিল টাইগাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে অপরাজিত আছেন ব্র্যান্ডন কিং (১৩ বলে ৫) আর জসুয়া ডি সিলভা (১১ বলে ২)।

শেষ বিকেলে ৪ ওভার ব্যাটিং করেছে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ। এতেই কিছুটা চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের ইন-সুইংয়ে পরাস্ত হচ্ছিল ক্যারিবীয়ান ব্যাটাররা। তবে উইকেটে নেশায় থাকা বাংলাদেশ কিছুটা অদূরদর্শীতা দেখায় বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের এক ওভারেই দুটি রিভিউ নিয়ে একটিতেও সফল হতে পারেনি বাংলাদেশ।

এর আগে ৭ উইকেট হাতে রেখে ৮৮ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ২৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠে নেমেছিলেন তাওহিদ হৃদয় আর ১৯ রানে মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় দিনে আর বেশি সময় ব্যাটিং করতে পারেননি মুশফিক। দলের বিপদ বাড়িয়ে সকালেই ফিরে যান তিনি। ৭৬ বলে ৩৪ রানে ফিরে যান তিনি।

এরপর দলের বিপদে হাল ধরার দায়িত্ব ছিল অভিজ্ঞ লিটন দাসের। কিন্তু যেন নিজের উইকেটটা বিলিয়ে দিয়ে ফেরেন। ৭ বলে ৮ রান করেই শিকার হন ক্যারিবীয়ান স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানের। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ৩০ বলে ১৬ রান করে সাজঘরের পথ দেখেন রোস্টন চেজের বলে।

৮ নম্বর ব্যাটার হিসেবে উইকেট আসা হাসান মাহমুদও হৃদয়কে সঙ্গ দিতে পারেননি বেশি সময়। ১২ বলে ১ রান করে ফিরে যান তিনি। এতে ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফলোঅনের শঙ্কায় পড়েছিল বাংলাদেশ।

তবে গল্পের অনেক বাকি ছিল তখনো। বাকিরা যেখানে যাওয়া-আসার মিছিলে ব্যস্ত ছিলেন সেখানেই ভিন্ন ছিলেন তাওহিদ হৃদয়। একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করেছেন তিনি। বাকি ব্যাটারদের দেখিয়েছেন ব্যাটিংটা ঠিক কিভাবে করতে হয়। ক্যারিবীয়ান বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে সাবলীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের রান বাড়িয়ে নিয়েছেন।

অষ্টম উইকেটে তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ১৬৭ বলে ১১৭ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। এই জুটিতে অবশ্য হৃদয়ের অবদানটাই ছিল প্রায় সবটুকু। ৯২ রান এসেছিল তার ব্যাট থেকে আর ২২ রান তাইজুলের ব্যাট থেকে। ৫৬ বলে ২২ রান করা তাইজুল ফিরলে ভাঙে এই জুটি।

এর মাঝেই ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন হৃদয়। সাধারণত সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করতে পারেন না বাংলাদেশি ব্যাটাররা। তবে হৃদয় নেমেছিলেন হৃদয় জয় করতে। সেঞ্চুরিতেই থেমে যাননি তিনি। ঐতিহাসিক ইনিংস উপহার দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেন।

তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে নবম উইকেটেও ১২১ বলে ৮৫ রানের ইনিংস গড়েন তিনি। এর মাঝেই চতুর্থ বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে তুলে নেন ডাবল সেঞ্চুরি। শেষ ছাড়িয়ে পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস গড়ে অপরাজিত থাকেন ৩৫৯ রানের ২৪২ রান করে। তাসকিন ২৯ বলে ১২ রান করে ফিরলে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। চোটের কারণে সিলেট টেস্ট থেকে ছিটকে যাওয়া সাদমান ইসলামের পরিবর্তে কেউ মাঠে নামতে পারেননি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ