1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন

আজ বিশ্ব সঞ্চয় দিবস

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৩ Time View

আজ ৩১ অক্টোবর, বিশ্ব সঞ্চয় দিবস। ব্যক্তিগত জীবনে সঞ্চয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং মানুষকে নিয়মিত অর্থ জমানোর অভ্যাসে উৎসাহিত করতে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়। আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণে সঞ্চয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই অল্প পরিমাণ অর্থ হলেও নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানায় দিবসটি।

বিশ্ব সঞ্চয় দিবসের সূচনা হয় ১৯২৪ সালে ইতালির মিলান শহরে। ওই বছরের ৩১ অক্টোবর প্রথম আন্তর্জাতিক সঞ্চয় ব্যাংক কংগ্রেসের সমাপনী দিনে দিবসটি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ইতালীয় অধ্যাপক ফিলিপ্পো রাভিজ্জা আন্তর্জাতিক সঞ্চয় দিবস হিসেবে দিনটি পালনের প্রস্তাব করেন। সম্মেলনে বিশ্বের ২৯টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ব্যাংকে অর্থ জমা রাখা এবং সঞ্চয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। শুরুতে দিবসটি ‘ওয়ার্ল্ড থ্রিফট ডে’ বা বিশ্ব মিতব্যয়িতা দিবস নামেও পরিচিত ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিভিন্ন দেশে দিবসটির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।

সঞ্চয় শুধু অর্থ জমিয়ে রাখার বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। হঠাৎ অসুস্থতা, চাকরি হারানো কিংবা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে জমানো অর্থ বড় ধরনের সহায়তা দিতে পারে। পাশাপাশি সন্তানের শিক্ষা, বাড়ি নির্মাণ, প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা এবং অবসরজীবনের আর্থিক নিশ্চয়তা তৈরিতেও সঞ্চয়ের ভূমিকা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঞ্চয় শুরু করতে বড় অঙ্কের আয়ের প্রয়োজন নেই। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অল্প অর্থ দিয়েও নিয়মিত সঞ্চয় করা সম্ভব। এজন্য আয় ও ব্যয়ের হিসাব রাখা, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো এবং মাসের শুরুতেই আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ সঞ্চয়ের জন্য আলাদা করে রাখা জরুরি। মাস শেষে অবশিষ্ট অর্থ জমা রাখার পরিবর্তে শুরু থেকেই সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করলে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হয়।

শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের নয়, শিশুদের মধ্যেও ছোটবেলা থেকে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে মাটির ব্যাংক হতে পারে সহজ একটি মাধ্যম। উপহার কিংবা হাতখরচের টাকা থেকে সামান্য অংশ জমিয়ে রাখার অভ্যাস শিশুদের অর্থের মূল্য বুঝতে এবং প্রয়োজন ও শখের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখায়।

তবে সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে শুধু অর্থ জমালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। কোথায় অর্থ রাখা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন এবং সঞ্চয়ের শর্ত কী এসব বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার আগে সুদের হার, সার্ভিস চার্জ ও অন্যান্য নিয়মকানুন জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিশ্ব সঞ্চয় দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো, নিয়মিত সঞ্চয়ের মাধ্যমে আর্থিকভাবে সচেতন ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। কারণ, আজকের ছোট সঞ্চয়ই আগামী দিনের বড় আর্থিক নিরাপত্তার ভিত্তি হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ