1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে আমন মৌসুম শুরুতেই ধান কাটা শ্রমিক সংকট

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৬
  • ১৪২ Time View

73রাজশাহী : আমন ধান কাটামাড়াই শুরুতেই শ্রমিক সংকট চরম আকার ধারন করেছে বরেন্দ্র অঞ্চলে । মাঠের ধান ঘরে তোলা নিয়ে তাই দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষকরা। অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। কৃষকেরা জানান, পুরো মাঠে এখন সোনালী রঙে সেজেছে। বাতাসের দোলে পাকা শীর্ষের মধুর শব্দ। ধান পেকে গেলেও ৮০ ভাগ ধান কাটতে কোনো শ্রমিক মিলছে না। কৃষকেরা জানান, কয়েক বছর ধরে আমনে দাম ঠিকভাবে পাচ্ছেন না। তার উপরে প্রতি মৌসুমে বেড়েই যাচ্ছে শ্রমিকের মজুরি। বর্তমানে মজুরি বেশি দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। অনেকেই শহরমুখি হচ্ছেন। রাজশাহী জেলা কৃষি স¤প্রাসাণ অধিদফতরের তথ্য মতে, রাজশাহীতে ৭০ হাজার ২২৪ হেক্টর আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো। কিন্তু আবাদ হয়েছে ৭৫ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে। গত বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫ হাজার ৭৩৫ হেক্টর। আর আবাদ হয়েছিলো ৭৩ হাজার ৭৩২ হেক্টর জমিতে।

সেই হিসেবে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আমন আবাদ বেড়েছে ৫ হাজার ১০৬ হেক্টর। একইভাবে এ অঞ্চলের নওগাঁ জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিলো এক লাখ ৯৬ হাজার ৬৪ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ২ লাখ এক হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে। নাটোরে ৫৫ হাজার ৬শ হেক্টরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৬৫ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমনের আবাদ হয়েছে ৫২ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে। রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলার চাঁনন্দালায় গ্রামের কৃষক তসিকুল ইসলাম জানান, ১৫ বিঘা জমিতে আমন চাষাবাদ করেছেন তিনি। ক্ষেতে ধান পেকে গেছে। কিন্তু শ্রমিক না পাওয়াই এখনও পর্যন্ত তার ধান কাটা শুরু করতে পারেনি।

পাকা ধানের উপর প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ হলে ব্যাপক লোকশানে পড়তে হবে বলে চিন্তিত রয়েছেন তিনি। তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা গ্রামের কৃষক লতিব সরদার জানান, প্রতিবছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে শ্রমিকেরা এসে তাদের ধান কাটা-মাড়াই করে দেয়। কিন্ত চলতি মৌসুমে সেখান থেকে শ্রমিক না আসায় তার ১৬ বিঘা পাকা ধান গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মাঠে পড়ে রয়েছে। সেই সাথে ইঁদুরের উপদ্রপে পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নিজামপুর গ্রামের কৃষক দেওয়ান আলী জানান, এলাকায় শ্রমিকদের ধানের মুজুরি দিয়েই ধান কাটার নিয়ম রয়েছে। কিন্ত ধানের দাম না থাকায় শ্রমিকেরা ধানের মুজুরি দিয়ে ধান কাটতে চাচ্ছেন না। বর্তমানে নারী শ্রমিক দিনে মজুরি নিচ্ছেন ৩৫০ টাকা। গত মৌসুমে মজুরি ছিলো ২৫০ টাকা। রাজশাহী কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালি জানান, প্রতি বছরই আমন কাটা মাড়ায়ের সময় শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। মাত্র আমন কাটা শুরু হয়েছে। একটু সময় লাগলেও মৌসুম ভাবে ভাবেই শেষ করতে পারবেন কৃষকরা বলে তিনি আশা করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ