খুলনায় একের পর এক ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। যার ধারাবাহিকতায় এবার নগরীর খানজাহান আলী রোডের নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় রিসেপশনে থাকা এক নারীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।শনিবার দুপুর ১টার দিকে সুলতানা হামিদ আলী স্কুলের বিপরীতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী নুর আজিমের অনুসারী একটি গ্রুপ এ ঘটনায় জড়িত।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাথায় ক্যাপ ও মুখে মাস্ক পরা ৮-৯ জন যুবক হঠাৎ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রবেশ করে। এ সময় তারা চায়নিজ কুড়াল দিয়ে রিসেপশন কাউন্টার, এসি ও বিভিন্ন আসবাবপত্রে ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে রিসেপশনে থাকা এক নারীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সেখানে পরীক্ষা করাতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে খুলনা সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন জানান, ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে ফোন করে দুর্বৃত্তরা জানতে চায়, তিনি নুর আজিমকে চেনেন কি না। এরপরই তারা এসে প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালায়। তিনি বলেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তারা সবাই নুর আজিমের অনুসারী একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় নগরীর শামসুর রহমান রোডের রংধনু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আব্দুল্লাহ প্যাথলজিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাবুখান রোডের সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনায় মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগ শোনা গেলেও মালিকপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, চাঁদাবাজির অভিযোগে নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোড মোড়ের ঐতিহ্যবাহী চয়নিকা ফার্মেসিও গত ২৯ অক্টোবর থেকে বন্ধ রয়েছে।