1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
স্নাতক পাশেই চাকরি দেবে কমিউনিটি ব্যাংক | Boishakhi Online কর্মী নেবে সীমান্ত ব্যাংক, আবেদন অনলাইনে সারা দেশে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নানা আয়োজন প্রদীপের আলোয় ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন রংপুরের কুমারপল্লিতে সৌদি আরবে বিমানবন্দরে বিধিনিষেধ, ১৮০ ফ্লাইটের ২৩ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২, লিড নিয়ে ৩৮৬ রানে থামল বাংলাদেশ ‘দফাদার কিংবা মহল্লাদার নয়, এখন থেকে আপনারা গ্রাম পুলিশ’ গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, দেওয়া হবে মোবাইল বিলও অবহেলিত সিনেমা জিতল ১৮টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার, দর্শকদের কাঁদাচ্ছে ‘পায়ার’ ক্ষমতাচ্যুত করে পেনাকে গৃহবন্দি, প্যারাগুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট আলিয়ানা

প্রদীপের আলোয় ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন রংপুরের কুমারপল্লিতে

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৮ Time View

আগামীকাল হিন্দুদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দীপাবলি। উৎসবকে সামনে রেখে রংপুর অঞ্চলের কুমারপল্লিগুলোতে এখন কর্মচাঞ্চল্য। প্রদীপের আলোয় নিজেদের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন বহু কুমার পরিবার।

রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামের তিন হাজারের বেশি কুমার পরিবার মাটির প্রদীপ তৈরি করেন। স্থানীয়ভাবে এগুলো ‘দিয়ার’ নামে পরিচিত। দীপাবলির চাহিদা মেটাতে এক মাস ধরে প্রদীপ তৈরি চলছে। একেকটি পরিবার ২০ থেকে ৮০ হাজার পর্যন্ত প্রদীপ তৈরি করে।

কুমারদের কাছে দীপাবলি শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি তাদের বছরের অন্যতম বড় আয়ের মৌসুমও।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে সাধারণ মানের ১০০টি প্রদীপ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের প্রদীপের দাম ১৮০-২০০ টাকা এবং উন্নত মানের প্রদীপ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

লালমনিরহাটের আদিতমারীর সারপুকুর গ্রামের কুমার প্রভাত চন্দ্র পাল (৬৫) এবার প্রায় ৭৫ হাজার প্রদীপ তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, ‘পাইকারেরা প্রদীপ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আমরাও হাটে বিক্রি করছি। আশা করছি, এবার ভালো লাভ হবে।’

সদর উপজেলার মোগলহাট কুমারপাড়ার বিষাদ চন্দ্র পাল (৫৫) জানান, আকারভেদে তারা তিন ধরনের প্রদীপ তৈরি করেন। বর্তমানে ১০০টি প্রদীপ তৈরিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা খরচ হয়। তিনি ইতিমধ্যে ৬০ হাজার প্রদীপ তৈরি করেছেন।

রংপুরের তারাগঞ্জের পালপাড়ার প্রবীণ মৃৎশিল্পী অজয় চন্দ্র পাল (৭৬) জানান, একসঙ্গে তিন থেকে পাঁচ হাজার প্রদীপ চুল্লিতে পোড়ানো যায়। আগুন নিভে যাওয়ার ১২ ঘণ্টা পর প্রদীপগুলো বের করতে হয়। তার পরিবার এবার ৭৫ হাজার প্রদীপ তৈরি করেছে।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর পালপাড়ার সুরেশ চন্দ্র পাল (৫০) নিজে ৬৫ হাজার প্রদীপ তৈরির পাশাপাশি পাইকারি সরবরাহের কাজও করেন। তিনি এবার দুই লাখ প্রদীপ বিক্রির লক্ষ্য নিয়েছেন।

রংপুরের মাহিগঞ্জ কুমারপাড়ার টুটুল চন্দ্র পাল (৫৫) জানান, দীপাবলিকে কেন্দ্র করে প্রতিটি কুমার পরিবার ৬০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করে। বছরের অভাবের সময় এই টাকা কাজে লাগে।

তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তাদের গ্রামের ৫৫টি কুমার পরিবারের মধ্যে অর্ধেকের বেশিই এখন আর মাটির কাজ করে না। অনেকেই পেশা বদলেছেন।

রংপুর নগরীর গুপ্তপাড়ার বাসিন্দা অশোক সরকার (৭০) বলেন, তিনি প্রতিবছর ৭০০-৮০০ প্রদীপ কেনেন। এবার এক হাজার প্রদীপ জ্বালানোর পরিকল্পনা আছে তার।

পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় প্রায় আড়াই লাখ হিন্দু পরিবার বসবাস করে। দীপাবলি উপলক্ষে প্রতিটি পরিবার ৩০০ থেকে ৮০০টি পর্যন্ত প্রদীপ কেনে। ফলে উৎসব ঘিরে মাটির প্রদীপের বিশাল বাজার তৈরি হয়, যার ওপর নির্ভর করে হাজারো মৃৎশিল্পী পরিবারের জীবিকা।

রংপুর বিভাগীয় পুরোহিত সোসাইটির আহ্বায়ক ধীমান ভট্টাচার্য বলেন, প্রদীপ জ্বালানো শুধু আলোকসজ্জা নয়, এটি প্রার্থনারও অংশ। এর মাধ্যমে প্রয়াত আত্মার শান্তি এবং সাম্য ও কল্যাণের প্রার্থনা করা হয়। কুমাররাও নিজেদের বাড়িতে প্রদীপ জ্বালিয়ে দীপাবলি উদযাপন করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ