ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে আজ সকালে (২৯ অক্টোবর) নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমিন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন।
সকাল প্রায় ৮টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন মির্জা ফয়সাল আমিন। ভোট দেওয়ার আগে ও পরে তিনি কেন্দ্রের ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফয়সাল আমিন বিপুল ব্যবধানে জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভোটগ্রহণ মাত্র শুরু হয়েছে এবং তার দল বড় ব্যবধানে বিজয়ী হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন।
তিনি বলেন, 'ইনশাআল্লাহ, আমরা নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করব।'
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তিনি বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, 'আমি কোনো শঙ্কা দেখছি না। সব ভোটারই আমার ভোটার এবং সবাই শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।' তিনি আরও যোগ করেন, প্রশাসন যদি কোনো ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে, তবে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ভোটার উপস্থিতির বিষয়ে ফয়সাল আমিন বলেন, আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকূল হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারের উপস্থিতি বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।
অন্যদিকে সকাল প্রায় সাড়ে ৮টায় ঠাকুরগাঁও পৌরসভার হাজিপাড়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোট দেন জামায়াত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন। তিনিও ভোট দেওয়ার আগে ও পরে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
ভোট দেওয়ার পর দেলোয়ার হোসেন ভোটারদের কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। ভোটগ্রহণ কেবল শুরু হওয়ায় সার্বিক নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে এখনই মন্তব্য করাটা আগাম হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে তিনি যে কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন, সেখানকার প্রিসাইডিং কর্মকর্তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ করেন যে ওই কর্মকর্তার পরিচয়পত্রে (আইডি কার্ড) কোনো ছবি ছিল না।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, 'আমরা কীভাবে নিশ্চিত হব যে তিনিই প্রকৃত ব্যক্তি নাকি অন্য কেউ?' ভুয়া বা প্রক্সি ভোটের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নির্ভর করবে সরকার, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের ওপর।
ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ও রিজার্ভ ফোর্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৮৫টি। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন; যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) ভোটার রয়েছেন ৪ জন।
এছাড়া মোট ২৮৭ জন ভোটার ডাকযোগে (পোস্টাল ব্যালট) ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন; যার মধ্যে ২৪৯ জন পুরুষ এবং ৩৮ জন নারী।
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.