1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
পুঁজিবাজার গতিশীল করতে পাঁচ মাসে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন বাণিজ্য মেলা সরানোর দাবি শেকৃবি শিক্ষার্থীদের, নির্মাণাধীন স্টল ভাঙচুর ধীরে এগোচ্ছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, দেশের যেসব অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা হাসিনা-কামালসহ ৮ জনের অভিযোগ গঠন শুনানি ফের পেছাল রাষ্ট্রীয় ব্যাংককে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার হাতিয়ার করা যাবে না: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ কাজাখস্তানকে উড়িয়ে এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের সোনা জয় ইংল্যান্ডকে ৭৯-১৩ পয়েন্টে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ বিশ্বকাপের নকআউটে বাংলাদেশ আরব আমিরাতের কার্যক্রম চালু রাখতে মরিয়া জনতা ব্যাংক নতুন ঋণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তার নিশ্চয়তা কোথায়: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

শব্দতরঙ্গ দিয়ে আগুন নেভানোর যন্ত্র: আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মেলায় স্বর্ণ জিতল কিশোরী

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৫ Time View

নিম্ন কম্পাঙ্কের শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে আগুন নেভাতে সক্ষম একটি বিশেষ যন্ত্র উদ্ভাবন করে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মেলায় স্বর্ণপদক জিতেছে মেক্সিকো। ‘ভোরটেক্স টেক’ নামের এই প্রোটোটাইপ বা মূল মডেলটি তৈরি করেছেন মেক্সিকোর ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আনহেলা কারিমে ভেনেগাস এরনান্দেস।

ইন্দোনেশিয়ায় গত ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন মেলায় এই উদ্ভাবনটি প্রথম স্থান অধিকার করে।

মেক্সিকোর তামাউলিপাস রাজ্যের আলতামিরা শহরের সরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিইটিআইএস-৭৮-এর শিক্ষার্থী ভেনেগাস এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে জানান, মার্কিন প্রতিরক্ষার গবেষণা সংস্থা ডারপা’র একটি প্রজেক্টের ভিডিও দেখে তিনি প্রথম এই ধারণাটি পান। ডারপা একটি চার মিটার দীর্ঘ ‘সনিক ক্যানন’ বা শব্দ-কামান ব্যবহার করে শব্দতরঙ্গের ধাক্কায় আগুন নেভানোর পরীক্ষা চালিয়েছিল। সেখান থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরির কাজে হাত দেন।

ভেনেগাস ও তাঁর দলের তৈরি এই ‘অ্যাকোস্টিক এক্সটিংগুইশার’ বা শব্দভিত্তিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রটি একটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি, একটি ফ্রিকোয়েন্সি জেনারেটর, অ্যাম্পলিফায়ার, হর্ন এবং একটি রূপান্তরিত ব্যারেলের সমন্বয়ে তৈরি।

কম্পাঙ্ক তৈরি: যন্ত্রটি ৩০ হার্টজের (প্রতি সেকেন্ডে ৩০টি স্পন্দন) একটি নিম্ন কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকোয়েন্সি তৈরি করে।

শব্দতরঙ্গে রূপান্তর: একটি বিশেষ হর্ন বা স্পিকার এই কম্পাঙ্ককে শক্তিশালী শব্দতরঙ্গে রূপান্তরিত করে ব্যারেলের শেষ প্রান্তে পাঠায়।

বাতাসের ঘূর্ণি সৃষ্টি: ব্যারেলের গোলাকার মুখ দিয়ে বের হওয়ার সময় শব্দতরঙ্গ বাতাসের সঙ্গে একটি ঘূর্ণি বা ‘ভোরটেক্স রিং’ তৈরি করে।

অক্সিজেন অপসারণ: এই ঘূর্ণায়মান বাতাসের প্রবাহ দ্রুত গতিতে গিয়ে আগুনের চারপাশের অক্সিজেন সরিয়ে দেয়। বাতাসে অক্সিজেন না থাকায় আগুন মুহূর্তের মধ্যে নিভে যায়।

ভেনেগাস জানান, প্রথমদিকে ছোট একটি মোমবাতির শিখা নেভাতেই তাঁদের হিমশিম খেতে হয়েছিল। টানা দুই মাসের গবেষণা ও একের পর এক ব্যর্থতার পর পঞ্চম প্রোটোটাইপে গিয়ে তাঁরা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পান। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে প্রায় এক বছর সময় লেগেছে।

এই উদ্ভাবনী যাত্রায় ভেনেগাসের মূল উপদেষ্টা ছিলেন তাঁর মামা হোসে আর্তুরো এরনান্দেস মুনিয়োস। তিনি নিজেও মেক্সিকোর একাধিক বিজ্ঞান মেলায় প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভেনেগাস বলেন, ‘আমার মামার ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম এবং সার্বিক দিকনির্দেশনা ছাড়া এই জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব ছিল না।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে মেডেল ও সনদপত্রের ছবি পোস্ট করে ভেনেগাস লেখেন, ‘এই গোল্ড মেডেল শুধু একটি স্বীকৃতি নয়; এটি কখনো হাল না ছাড়া, নিজের ধারণার ওপর বিশ্বাস রাখা এবং তা বাস্তবে রূপ দেওয়ার ফল।’

ইলেকট্রনিকস বিষয়ে পড়াশোনা করা ভেনেগাস ভবিষ্যতে মেকাট্রনিক্স বা ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ইন্দোনেশিয়ায় মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘চিনা পোবলানা’ পরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।

তবে এই উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আনা বা উন্নত করার জন্য এখনো কোনো বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা পাননি বলে জানিয়েছেন ভেনেগাস। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মেলায় অংশ নেওয়ার জন্য আলতামিরার মেয়োর আরমান্দো মার্তিনেস মানরিকেস এবং স্থানীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কেবল যাতায়াত ও প্রাথমিক আর্থিক সহায়তা পেয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ