ইসরায়েলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ২৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির জাতীয় সংসদ নেসেটের ২৬তম নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রত্যক্ষ করা গেছে। আনুষ্ঠানিক ভোট গণনা শুরুর প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটদানের চূড়ান্ত হার দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশে। এটি ১৯৯৯ সালের পর দেশটির সংসদীয় নির্বাচনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোট পড়ার নজির।
সারা দেশে ভোটকেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে।
কমিশনের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, ২৬তম নেসেট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার উপযুক্ত ছিলেন প্রায় ৭৩ লাখ ৩০ হাজার নাগরিক। তাদের মধ্য থেকে ৫৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে সরাসরি নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
এর আগের ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত নেসেট নির্বাচনে ভোটদানের সামগ্রিক হার ছিল ৭০ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
সেই পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এবার ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট। বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির তীব্র অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের টানটান সমীকরণই সাধারণ মানুষকে ভোটকেন্দ্রে টেনে এনেছে।
ইসরায়েলের সংসদীয় নির্বাচনের ইতিহাসে ভোটার উপস্থিতির সর্বশেষ বড় মাইলফলক অর্জিত হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। ওই নির্বাচনে ভোটদানের হার রেকর্ড করা হয়েছিল ৭৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
এরপর দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে কোনো নির্বাচনেই ভোটের হার এই উচ্চতায় পৌঁছায়নি। অবশেষে এবারের নির্বাচনে সেই ঐতিহাসিক রেকর্ডের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেল দেশটির ভোটারদের অংশগ্রহণ।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় সারা দেশে একযোগে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। কোনো বিরতি ছাড়া একটানা ভোটগ্রহণ চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। ব্যাপক ভোটারের উপস্থিতির মধ্য দিয়েই দেশটির ২৬তম সংসদীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়।