1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
রাশিয়াকে চাপে ফেলতে নিষেধাজ্ঞা বিল পাস যুক্তরাষ্ট্রের, শুল্কের নিশানায় ভারত-চীন আগামী মাসে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ : রুশ রাষ্ট্রদূত নির্বাচনি এজেন্টের ব্যাংক হিসাব দাখিল বাধ্যতামূলক করল ইসি জামায়াতের লংমার্চে ঢুকে নাশকতার পাঁয়তারা করছে আওয়ামী লীগ: রাশেদ খাঁন ভালো অর্জনকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী বাংলার জাহাজশিল্পের বিশ্ববাজার ও ব্রিটিশ আমলে ধ্বংস প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হলেন আবুল খায়ের এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর তারিখ জানালেন বিমানমন্ত্রী ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, লাগবে স্নাতক পাস

রাশিয়াকে চাপে ফেলতে নিষেধাজ্ঞা বিল পাস যুক্তরাষ্ট্রের, শুল্কের নিশানায় ভারত-চীন

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২ Time View

রাশিয়ার ওপর নতুন করে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরির একটি বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন জানায়, রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা ভারত ও চীন এই ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে। তবে বিলটি পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় বা চীনা পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে না। বরং এই ধরনের শুল্ক আরোপের আইনি ক্ষমতা ট্রাম্পকে দেওয়া হচ্ছে। বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়।

রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযানকে কেন্দ্র করে মস্কোর ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পক্ষে অধিকাংশ রিপাবলিকান সদস্য ভোট দেন। তাদের সঙ্গে কয়েক ডজন ডেমোক্র্যাট সদস্যও বিলটির পক্ষে ভোট দেন। এর আগে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটেও বিলটি বড় ব্যবধানে পাস হয়। সেখানে ভোটের ফল ছিল ৮৬-১১।
এখন বিলটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে যাবে। তিনি এতে সই করলে এটি আইনে পরিণত হবে।

বিলটির মূল উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কারণে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরো বাড়ানো। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী সংঘাতগুলোর একটি শুরু হয়।

চার বছরের বেশি সময় পরও যুদ্ধটি চলছে। নতুন আইনে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তথাকথিত ‘ছায়া বহর’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ‘ছায়া বহর’ বলতে মূলত এমন জাহাজের একটি নেটওয়ার্ককে বোঝানো হয়, যেগুলো ব্যবহার করে রাশিয়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল রপ্তানি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিলটিতে ইরানের ওপরও নতুন নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নতুন বিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ। আইন অনুযায়ী, কোনো দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা অব্যাহত রাখলে সেই দেশের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা যেতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি নিয়ে আলোচনা ও ভোটের সময় ভারত ও চীনকে এই ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে এমন বড় ক্রেতা হিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। ১০০ শতাংশ শুল্ক এখনই ভারতের ওপর বসছে না। বিলটি শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এই শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিচ্ছে। অর্থাৎ, ট্রাম্প চাইলে ভবিষ্যতে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা অব্যাহত রাখা কোনো দেশের পণ্যের ওপর এই শুল্ক আরোপ করতে পারবেন।

বিলটির সমর্থকরা মনে করছেন, রাশিয়ার জ্বালানির ক্রেতা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি তৈরি হলে এসব দেশ মস্কোর কাছ থেকে জ্বালানি কেনার বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বে থাকা রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মাইকেল ম্যাককল বলেন, মস্কোর ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে আলোচনায় বসার জন্য পুতিনকে চাপ দেওয়াই এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। তবে বিলটির বিরোধিতা করেছেন অনেক ডেমোক্র্যাট সদস্য। তাদের প্রধান আপত্তির একটি হলো- ট্রাম্পকে এত ব্যাপকভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য গ্রেগরি মিকস বলেন, এই বিল এমন একজন প্রেসিডেন্টকে আরো শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে, যিনি এরই মধ্যে মার্কিন বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপকভাবে শুল্ক ব্যবহার করছেন। মিকস রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর পরোক্ষভাবে শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা অংশটি বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়নি।

বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় আরো কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবে শুল্কের আওতায় পড়তে পারে এমন দেশের সংখ্যা সীমিত করার কথা বলা হয়। আরেকটি প্রস্তাবে ইউক্রেনকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনার জন্য অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। তবে এসব প্রস্তাবও নাকচ হয়ে যায়। বিলটি পাস হওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি বাণিজ্যের বড় পরিবর্তন ঘটে। পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমানোর চাপ তৈরি হলেও ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনে আসছে। নতুন মার্কিন আইন কার্যকর হলে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা অব্যাহত রাখার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে ভারতকে একদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানির ওপর সম্ভাব্য বাড়তি শুল্কের ঝুঁকিও হিসাব করতে হবে।

তবে আবারও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিলটি নিজে থেকে ভারতের ওপর কোনো নতুন শুল্ক আরোপ করছে না। ট্রাম্প এই ক্ষমতা ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিলে তবেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিলটি প্রথম ২০২৫ সালের এপ্রিলে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম উত্থাপন করেন। পরে তার সম্মানে বিলটির নাম পরিবর্তন করা হয়। ‘২০২৬ সালের লিন্ডসে ও. গ্রাহাম রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আইন’ নামে বিলটি পরিচিত হয়। গ্রাহাম জুলাই মাসে মারা যাওয়ার আগে ট্রাম্পও বিলটি এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাস হওয়ার পর এবার প্রতিনিধি পরিষদেও বিলটি পাস হলো।

প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর বিলটি এখন ট্রাম্পের কাছে যাবে। প্রেসিডেন্ট এতে সই করলে এটি আইনে পরিণত হবে। এরপর রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের আইনি ক্ষমতা ট্রাম্পের হাতে থাকবে। ভারতের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- ট্রাম্প এই ক্ষমতা ব্যবহার করবেন কি না এবং করলে কী ধরনের শুল্ক আরোপ করবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ