1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

১০ গোল হজম করে যা বললেন বাংলাদেশের কোচ

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭ Time View

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্যটা আকাশ-পাতাল সমান। ম্যাচ শুরুর আগেই জানা গিয়েছিল, এটি একটি ‘অসম’ লড়াই হতে যাচ্ছে। কিন্তু এমন ম্যাচেও অভিজ্ঞ তারকাদের বসিয়ে রেখে একঝাঁক তরুণ ফুটবলারকে নিয়ে একাদশ সাজিয়েছিলেন কোচ পিটার বাটলার।

তবে তার এই কৌশল মারাত্মক এক বিপর্যয় ডেকে আনল। এশিয়ান গেমসে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলের বড় ব্যবধানে লজ্জাজনক হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। আর এমন ভরাডুবির পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—এশিয়ার অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে কেন এমন তারুণ্যনির্ভর ও পরীক্ষা-নিরীক্ষামূলক একাদশ নামালেন কোচ?

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন কোচ বাটলার। তিনি জানিয়েছেন, এটি হুট করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারই একটি অংশ। তরুণ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মঞ্চের অভিজ্ঞতা দিয়ে ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী দল গড়ে তুলতে চান তিনি। তবে দলের এমন বড় হারের সমস্ত দায় নিজের কাঁধেই নিয়েছেন এই ইংলিশ কোচ।

দলের সেরা তারকা ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, মুনকি আক্তার ও শামসুন্নাহারের মতো অভিজ্ঞ মুখগুলোকে ডাগআউটে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। এমনকি এই ম্যাচে অভিষেক হয়েছে মাত্র ১৫ বছর বয়সী তরুণী অর্পিতা বিশ্বাসের। এত বড় ও মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে তরুণদের ওপর ভরসা রাখার যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন বাটলার।

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্কোয়াডে অনেক তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। দলে এমন একজন মেয়েও খেলেছে যার বয়স মোটে ১৫ বছর। তরুণদের অভিজ্ঞতা দিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার এই নীতি সঠিক নাকি ভুল—তা নিয়ে হয়তো অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে বা অনেকে এটি পছন্দ নাও করতে পারেন। তবে আমাদের বাস্তব অবস্থাও বুঝতে হবে, কারণ আমাদের দেশে মেয়েদের নিয়মিত কোনো ঘরোয়া লিগই নেই।’

তবে বাটলার কেনো অজুহাত দাঁড় করাতে চান না। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অজুহাত দাঁড় করাতে চাই না। আজকের এই বাজে হারের শতভাগ দায় আমি একাই নিচ্ছি, কারণ মাঠে খেলা মেয়েরা আমারই দল।’

তবে কেবল তরুণদের সুযোগ দেওয়াকেই হারের একমাত্র কারণ হিসেবে মানতে নারাজ বাটলার। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের মেয়েদের শক্তির যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে, সেটিও খোলাখুলি স্বীকার করেছেন তিনি। প্রতিপক্ষের ফুটবলারদের গতির সঙ্গে খেলার অভ্যস্ততা এ দেশের মেয়েদের নেই বলেই মনে করেন কোচ।

বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ বাটলার বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার খেলার গতির সঙ্গে আমাদের মেয়েরা একেবারেই অভ্যস্ত নয়। সত্যি বলতে, এই উচ্চ মানের দলের বিপক্ষে লড়াই করার মতো মানসিক বা শারীরিক প্রস্তুতি আমাদের এখনও তৈরি হয়নি।’

ম্যাচে শুরু থেকেই দিশেহারা ছিল বাংলাদেশ। প্রথমার্ধেই জালে বল জড়ায় সাতবার। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আসে আরও তিনটি গোল। তবে এত বড় ব্যবধানে হারের পরও বিরতির পর দলের খেলায় সামান্য ইতিবাচক উন্নতি দেখতে পেয়েছেন কোচ। তার কাছে এই ম্যাচের স্কোরলাইন বা ফলাফল এখন আর বড় কোনো বিষয় নয়। বরং সামনে থাকা মিয়ানমার ম্যাচটিই তাদের আসল লক্ষ্য।

বাটলার বলেন, ‘ম্যাচের ফল ১-০ হলো নাকি ১০-০ হলো, সেটা এখন আর বড় কথা নয়। আমাদের মূল লক্ষ্য ও ফোকাস এখন মিয়ানমার ম্যাচটিকে ঘিরে।’

গ্রুপ পর্বে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আর শক্তির বিচারে সেই ম্যাচেও লাল-সবুজের দল এক কঠিন পরীক্ষার মুখেই পড়তে যাচ্ছে বলে মনে করছেন কোচ পিটার বাটলার।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ