সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনটা ব্যাট হাতে নিজেদের করে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে সেশনে ১২১ রান যোগ করেছে ক্যারিবীয়রা। তবে স্বাগতিকদের জন্য স্বস্তির জায়গা, এই সেশনেই গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট তুলে নিয়েছেন স্পিনাররা। জশুয়া ডা সিলভাকে ফিরিয়ে দিনের শুরুতে প্রথম আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম। পরে দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন ৬১ রান করা ব্রেন্ডন কিং।
রোববার (৮ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনের খেলা শেষ হয়েছে। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ১২৮ রান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের লিড পেরিয়ে সফরকারীদের ব্যবধান এখন ৯৮ রান।
দিনের শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা। আগের দিন মাত্র ৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা দলটি চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই দ্রুত রান তুলতে থাকে। একপর্যায়ে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেন ব্রেন্ডন কিং। অন্য প্রান্তে জশুয়া ডা সিলভাও জুটি গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন। তবে দিনের শুরুতেই তাইজুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফিরতে হয় ডা সিলভাকে। তাতে প্রথম উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ।
এরপরও রান তোলার গতি কমাননি ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। বিশেষ করে ব্রেন্ডন কিং বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাটিং করছিলেন। একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্ধশতকও তুলে নেন তিনি। তার ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস শক্ত অবস্থানের দিকে এগোচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে আবারও উইকেটের সম্ভাবনা তৈরি করেন মিরাজ। তার বলে কেভাম হডজের প্যাডে বল লাগলে আবেদনে সাড়া দিয়ে আউট দেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে শেষ পর্যন্ত বেঁচে যান হডজ। ফলে দ্বিতীয় উইকেটের অপেক্ষা বাড়ে বাংলাদেশের।
তবে সেই অপেক্ষা বেশিক্ষণ দীর্ঘ হয়নি। পরের ওভারেই দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ব্রেন্ডন কিংকে সাজঘরের পথ দেখান মিরাজ। রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে বল করতে এসে অফ স্টাম্পের বাইরে লাইন রাখেন তিনি। বলটি বাতাসে দারুণভাবে ড্রিফট করে কিংয়ের দিকে চলে আসে। সামনের পায়ে এগিয়ে এসে ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন ক্যারিবীয় ব্যাটার। কিন্তু বলের গতিপথ বুঝতে না পেরে ব্যাটের বাইরের কানায় লাগিয়ে বসেন তিনি। স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে জমা পড়ে ক্যাচ। ৬১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে বিদায় নিতে হয় কিংকে। তার এই উইকেট বাংলাদেশের জন্য বিশেষ স্বস্তির। কারণ, ক্রিজে বেশ ভালোভাবেই থিতু হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তার ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ বড় লিডের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। তাকে ফিরিয়ে অনেকটা স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশ শিবিরে।
চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে ব্যাটিংয়ে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তবে উইকেট তুলে নিয়ে লড়াইয়ে টিকে আছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনে দ্রুত আরও কয়েকটি উইকেট তুলে নিতে পারলে সফরকারীদের বড় লিড নেওয়ার পরিকল্পনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারবে স্বাগতিকরা।
একশ পেরোলো উইন্ডিজ, প্রাপ্তি তাইজুলের এক উইকেট
৮৫ রানের মাথায় এসে ভাঙে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম উইকেট। তাইজুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন জশুয়া ডা. সিলভা। গুরুত্বপূর্ণ এই উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন অভিজ্ঞ এই স্পিনার। এর মধ্য দিয়ে প্রতিপক্ষের গড়ে ওঠা জুটিতেও ছেদ পড়ে।
উইকেট হারালেও এখনো বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে সফরকারীরা। ক্রিজে থিতু হয়ে ব্যাট করছেন ব্রেন্ডন কিং। মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। এবার সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেও পেলেন ফিফটি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটা ব্রেন্ডন কিংয়ের ষষ্ঠ ফিফটি। অন্য প্রান্তে নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে যোগ দিয়েছেন কেভাম হডজ। উইকেটে সময় কাটিয়ে বড় জুটি গড়াই এখন তাদের লক্ষ্য।
তাইজুলের এই উইকেট বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে বোলারদের জন্য। চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের গতি থামিয়ে দিতে না পারলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার সুযোগ পাবে সফরকারীরা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ(দ্বিতীয় ইনিংস): ৩৫৬ ও ১২৮/২ (কিং ৬১, হডজ ৩০*; মিরাজ ১/৩০, তাইজুল ১/৩৭)।
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১১১.৫ ওভারে ৩৮৬ (হৃদয় ২৪২*, মুশফিক ৩৪, তাইজুল ২২, নাজমুল ১৮, মিরাজ ১৬, তানজিদ ১৬, তাসকিন ১২, লিটন ৮; ওয়ারিক্যান ৪/১০৪, সিলস ২/৫৮, চেজ ১/৬৬, জোসেফ ১/৮২,গ্রিভস ১/১০)।