1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কাশিমপুর কারাগারে ১২ আসনের ইলেকট্রিক কার্ট দিল মধুমতি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও ট্রেডউইন্ডের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে মালদ্বীপের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান অসুস্থতা কাটিয়ে কনের সাজে হাজির প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, যাত্রা বিলম্ব বিশ্ব স্ট্রোক দিবসে এভারকেয়ার চট্টগ্রামে পেশেন্ট ফোরাম ও সচেতনতামূলক র‍্যালি ঢাকা দক্ষিণের সাবেক কাউন্সিলর সাঈদের ৭ বছরের কারাদণ্ড রাজশাহীতে বাড়ির ছাদে কৃষককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

স্বাধীনতা বুননের ৬ দফা

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৭ জুন, ২০১৭
  • ১০১ Time View

মাত্র ছয়টি দফা। তাতে কয়েকটি বাক্য। আর এতেই যেন একটি জাতিসত্তার বীজ বুনন হলো। হাজার বছরের শৃঙ্খলিত বাঙালি জাতিকে ছয়টি দফার বাঁধনে বেঁধে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখানো হলো। মৌলিক আর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিটি দফায় বাঙালির অন্তরের কথা প্রকাশ পেতে থাকল।

ছয় দফার অন্তঃকথা জানতে বাকি রইল না প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জের মানুষেরও। দফা নয়, যেন মুক্তির পয়গাম। স্বাধীনতার মর্মকথা ঠিক এখানেই। বাঙালি আর পেছনে যেতে চাইল না। মুক্তির বার্তা ছয় দফা বুকে ধারণ করে আন্দোলনের নিশানা দাঁড় করাল। তাই ঐতিহাসিক সত্য, ‘ছয় দফা থেকেই বাংলাদেশ’।

আজ ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। দিবসটির ৫১ বছর পূর্ণ হলো। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলনের সূচনা হয়।

এই দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে টঙ্গি, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে তৎকালীন পুলিশ ও ইপিআর’র গুলিতে মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ ১০ বাঙালি শহীদ হন। এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আপসহীন সংগ্রামের ধারায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যায় পরাধীন বাঙালি জাতি।

দিবসটি উপলক্ষে রাজনীতিবিদরা বলেছেন, ছয় দফার মধ্যেই এক দফা নিহিত ছিল। এর ভেতর দিয়েই স্বাধীনতা এসেছে। ছয় দফা ছাড়া স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও বেড়ে ওঠা সম্ভব হতো না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাসখন্দ চুক্তিকে কেন্দ্র করে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ছয় দফা উত্থাপন করেন এবং পরের দিন সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে যাতে এটি স্থান পায় সে ব্যাপারে সংষ্টিদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু ওই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর সে দাবির প্রতি আয়োজকপক্ষ গুরুত্ব প্রদান করেনি। তারা ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।

প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে যোগ না দিয়ে লাহোরে অবস্থানকালেই ছয় দফা উত্থাপন করেন। এ নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন খবরের কাগজে বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বলে চিহ্নিত করা হয়। পরে ঢাকায় ফিরে বঙ্গবন্ধু ১৩ মার্চ ছয় দফা এবং এ ব্যাপারে দলের অন্যান্য বিস্তারিত কর্মসূচি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদে পাস করিয়ে নেন।

ছয় দফার মূল বক্তব্য ছিল- প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় ছাড়া সকল ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে। পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানে দুটি পৃথক ও সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে। সরকারের কর ও শুল্ক ধার্য এবং আদাদের দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকাসহ দুই অঞ্চলের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা হিসাব থাকবে। পূর্ববাংলার প্রতিরক্ষা ঝুঁকি কমানোর জন্য এখানে আধা-সামরিক বাহিনী গঠন ও নৌবাহিনীর সদর দফতর স্থাপনের দাবিও সেখানে উল্লেখ করা হয়।

বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ছয় দফা দাবির মুখে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ছয় দফা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে অস্ত্রের ভাষায় উত্তর দেয়া হবে।

এদিকে, ছয় দফা কর্মসূচি জনগণের মাঝে পৌঁছে দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমগ্র পূর্ববাংলা সফর করেন এবং ছয় দফাকে বাঙালির বাঁচার দাবি হিসেবে অভিহিত করেন।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান চৌধুরী, জহুর আহমদ চৌধুরী ও নুরুল ইসলাম চৌধুরী গণসংযোগে অংশ নেন। প্রতিটি জনসভায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ফলে শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করেন। যশোর, ময়মনসিংহ ও সিলেটসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ছয় দফার পক্ষে প্রচারকালে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হন।

পরবর্তীতে ঐতিহাসিক ছয় দফাভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনই ধাপে ধাপে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত হয়। এ দাবির স্বপক্ষে বাঙালি জাতির সর্বাত্মক রায় ঘোষিত হয় ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বাঙালিরা বিজয়ী করেন।

বঙ্গবন্ধুর দলকে জনগণ বিজয়ী করলেও স্বৈরাচার পাকশাসকরা বিজয়ী দলকে সরকার গঠন করতে না দিলে আবারও বঙ্গবন্ধু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ