1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বিলুপ্ত ফুটি কার্পাস পুনরুদ্ধার, ১৭০ বছর পর বিশ্ববাজারে ফিরছে ঢাকাই মসলিন বিপিজেএ খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত আরও এক বছর অর্থ সচিব থাকছেন খায়েরুজ্জামান সাভারে যমুনা ব্যাংকের উপশাখা উদ্বোধন বাংলাদেশ-স্পেন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ জোরদারে গুরুত্ব আরোপ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর চিত্রনাট্যে ছিল না, কিন্তু সাহসী দৃশ্যে রাজি ছিলেন রেখা-অক্ষয় নেতানিয়াহুর থাকা না থাকায় বিশ্বে কী প্রভাব পড়বে? আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা শুরু ২৯ অক্টোবর, থাকবে ২০টির বেশি দেশ ভারতের কাছে এবার ১৩ গোল হজম করল বাংলাদেশ সরকারি ব্যাংকের মধ্যে প্রথম মাস্টারকার্ডের লাইসেন্স পেল বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক

মহাপরিকল্পনা নিয়ে হতাশা কাটছে না তিস্তাপাড়ের মানুষের

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২১ Time View

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ কবে শুরু হবে, আদৌ হবে কি না—এ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। দেশের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ঘোষণা এলেও এখনো কাজ শুরুর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ছয়টি প্রস্তাব দিয়েছে ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের বাজেট অনুমোদন, সময়মতো রোডম্যাপ ঘোষণা, তিস্তা কর্তৃপক্ষ গঠন, তিস্তা বন্ড চালু, অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ এবং তিস্তার সঙ্গে যুক্ত ২২টি শাখা নদী পুনরুজ্জীবিত করা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে নতুন করে আন্তর্জাতিক মানের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা কমিশনে ২৩ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠিয়েছে। মূল প্রকল্প শুরুর আগে এর কারিগরি ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করা হবে এই সমীক্ষায়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ, নদীর গঠন ও পরিবর্তন, পরিবেশ এবং আর্থসামাজিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, সমীক্ষায় তিস্তার পুরো বাংলাদেশ অংশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। এর আওতায় থাকবে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলা। নদীশাসন, খনন, নতুন ব্যারাজ নির্মাণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সংরক্ষণের মতো বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘এখনো সমীক্ষার কাজ শুরু হয়নি। আশা করছি, আগামী বছরের শুরুতে কাজ শুরু হবে। জুনের আগে সমীক্ষা শেষ করে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে পারলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।’

রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, আন্তর্জাতিক মানের সমীক্ষায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী পরিকল্পনা নেবে। এরপর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, ‘সরকার যেহেতু দেশের টাকায় এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে আগ্রহী, তাই এবার প্রকল্পটি নিয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে।’

তবে তিস্তার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানান তিনি। আহসান হাবিব বলেন, ‘এ বছরের অক্টোবরেই নদীর পানি কমে বড় বড় চর জেগে উঠেছে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত তিস্তার পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হতে পারে।’

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার চর গড্ডিমারী এলাকার কৃষক আজিজুল ইসলাম (৬৫) জানান, এর আগেও কয়েকবার সমীক্ষার কথা শুনেছেন। এবারও নতুন করে সমীক্ষার উদ্যোগের কথা শুনছেন। তবে প্রকল্পের কাজ আদৌ শুরু হবে কি না, তা নিয়ে তার সংশয় রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখন আমার কাছে মনে হচ্ছে, তিস্তা নিয়ে শুধু রাজনীতি হচ্ছে। তিস্তাপাড়ের মানুষ রাজনীতির চক্রে ঘুরছে। বাস্তবে তাদের কষ্ট লাঘব করার উদ্যোগ কেউ নিচ্ছে না। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে এখন আমাদের হতাশা ছাড়া আর কিছুই নেই।’

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর এলাকার কৃষক সহির উদ্দিন (৬০) জানান, গত বছর চীন ও বাংলাদেশের একটি দল তিস্তাপাড়ে সমীক্ষা চালিয়েছিল। এ সময় স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ও করা হয়।

তিনি বলেন, ‘আমি তিস্তা নিয়ে মতামত দিয়েছিলাম। আমাদের কথা তারা শুনেছিলেন। ভেবেছিলাম, এবার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। কিন্তু তা হয়নি। আবারও সমীক্ষা হবে। এরপর কাজ শুরু হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি। আমরা খুবই হতাশ।’

তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, ‘তিস্তা বন্ড চালু করা হলে দেশে ও বিদেশে থাকা অনেক মানুষ তা কিনতে আগ্রহী হবেন। এই বন্ড বিক্রি করে পাওয়া অর্থ শুধু মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যয় করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘পানি ও কৃষি বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের দক্ষ কর্মকর্তা এবং তিস্তাপাড়ের মানুষকে নিয়ে একটি তিস্তা কর্তৃপক্ষ গঠন করা হলে প্রকল্পের কাজ তদারক করা সহজ হবে। এতে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রস্তাবগুলো সরকারের কাছে পাঠিয়েছি। সরকার এগুলো বিবেচনা করতেও পারে, আবার নাও করতে পারে। তবে প্রস্তাবগুলো তিস্তাপাড়ের মানুষের চাওয়া ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আমরা আশা-নিরাশার দোলাচলে রয়েছি। দেশের টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সরকারি ঘোষণা আমাদের আশাবাদী করেছে। তবে হতাশা এখনো কাটেনি। তিস্তাপাড়ের মানুষ আর প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না, তারা বাস্তব কাজ দেখতে চায়।’

তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিস্তাপাড়ে আন্তর্জাতিক মানের সমীক্ষার জন্য সরকার অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। দ্রুতই সমীক্ষার কাজ শুরু হবে।’

‘সমীক্ষা শেষে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নেওয়া হবে। ২০২৭ সালের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে’, যোগ করেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ