1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৩ অপরাহ্ন

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ১৭ Time View

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ীতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা। অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুর ও সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজীপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

সোমবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন পোশাক শ্রমিকেরা। এ সময় মহাসড়কে কাঠের গুঁড়ি ও আবর্জনা জড়ো করে আগুন জ্বালান তারা। বিভিন্ন মোড়ে লাঠিসোঁটা হাতে অবস্থান নিতেও দেখা যায় আন্দোলনকারীদের।

অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে চন্দ্রার ইকো গার্মেন্টসসহ বেশ কয়েকটি কারখানায় বন্ধের নোটিশ টানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে রায়ট কারসহ অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

এদিকে শ্রম অসন্তোষ নিরসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাঠে কাজ করছেন বিজিবি সদস্যরা।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল করিম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রমিক বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছেন। আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদ কিংবা সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি যেন না হয়, সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সোমবার সকালেও রাজধানীর মিরপুরে সড়কে নামার চেষ্টা করেন পোশাক শ্রমিকেরা। সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিল নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন তারা।

এ সময় আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা পুলিশের বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয় এবং কয়েকটি টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পরে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে নিজ নিজ কারখানায় ফিরে যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববারের সংঘর্ষের পর সোমবার সকাল থেকেই মিরপুর-১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে রোববার মিরপুর-১০ ও ১১ নম্বর এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে ১৯ জনকে আটক করে পুলিশ।

এদিকে সাভারের আশুলিয়ায় সোমবার সকাল থেকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উলাইল এলাকায় মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন আন্দোলনরত শ্রমিকেরা। পুলিশের বাধায় তারা সড়ক থেকে সরে গেলেও থেমে থেমে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে।

এর আগে সকাল ১০টার পর আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে অনন্ত গ্রুপের একটি কারখানার সামনে শ্রমিকেরা জড়ো হতে থাকেন। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির কারণে সড়কসংলগ্ন অধিকাংশ পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

শিল্প পুলিশ-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) শোয়েব আহম্মেদ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাজ করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ