1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ পাঠানোর নিয়ম সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৫৯ Time View

বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং লভ্যাংশ ও বিনিয়োগের অর্থ নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে উৎপাদন ও সেবা খাতের কোম্পানিগুলোকে অনাবাসী (নন-রেসিডেন্ট) বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে ‘প্রেফারেন্স শেয়ার’ (অগ্রাধিকার শেয়ার) ইস্যু করার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু, সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর (কনভার্সন) ও খালাস (রিডেম্পশন) এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেশে ফেরত পাঠানোর বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফরেন এক্সচেঞ্জ ইনভেস্টমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (এফইআইডি)-এর সার্কুলার নং ০৪ অনুযায়ী, কোম্পানিগুলো ‘কোম্পানি আইন, ১৯৯৪’, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান এবং নিজেদের সংঘস্মারক (মেমোরেন্ডাম) ও সংঘবিধি (আর্টিকলস অফ অ্যাসোসিয়েশন) মেনে অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ ধরনের শেয়ার ইস্যুর বিপরীতে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগের অর্থ বাংলাদেশে আনতে হবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যদি প্রেফারেন্স শেয়ারের লভ্যাংশের হার শেয়ারের অভিহিত মূল্যের (ফেস ভ্যালু) পাঁচ শতাংশের বেশি না হয়, তবে কোম্পানিগুলোকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি নিতে হবে না।

তবে, লভ্যাংশের হার পাঁচ শতাংশের বেশি হলে-যার মধ্যে অংশগ্রহণমূলক (পার্টিসিপেটিং) বা পরিবর্তনযোগ্য (অ্যাডজাস্টেবল) লভ্যাংশের হারও অন্তর্ভুক্ত-সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমতি প্রয়োজন হবে। এসব ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোকে তাদের মনোনীত ‘অথরাইজড ডিলার’ (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে যথাযথ যৌক্তিকতা উল্লেখ করে আবেদন জমা দিতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যুর ১৪ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এডি ব্যাংককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। এসব কাগজপত্রের মধ্যে কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধি, যথাযথভাবে সত্যায়িত ফরম-১৫, অর্থ ভাঙানোর সনদ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিডিউল-এক্স অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে যে, প্রেফারেন্স শেয়ার অবশ্যই অভিহিত মূল্যে (অ্যাট পার) ইস্যু করতে হবে। এর ফলে শেয়ার ইস্যু বা খালাসের সময় কোম্পানিটির আলাদা কোনো মূল্যায়ন (ভ্যালুয়েশন) করার প্রয়োজন হবে না।

তবে, যদি প্রেফারেন্স শেয়ারে রূপান্তরের (কনভার্সন) সুবিধা থাকে, সেক্ষেত্রে সাধারণ শেয়ারের ন্যায্য মূল্য (ফেয়ার ভ্যালু) নির্ধারণ করতে হবে। এই মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৮ মার্চ, ২০২৬ তারিখে জারি করা এফইআইডি সার্কুলার নং ০১-এ বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী হতে হবে, যা রূপান্তর অনুপাত (কনভার্সন রেশিও) নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

প্রেফারেন্স শেয়ারকে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের ক্ষেত্রে, ইস্যুকারী কোম্পানিকে তাদের মনোনীত অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে ফরেন এক্সচেঞ্জ ইনভেস্টমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (এফইআইডি)-কে অবহিত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, নির্দেশনা ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় সংক্রান্ত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ এবং প্রযোজ্য কর পরিশোধ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই মনোনীত এডি ব্যাংক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ ও শেয়ার অবসায়নের অর্থ বিদেশে পাঠাতে পারবে।

শেয়ার অবসায়নের কিস্তির অর্থ পাঠানোর প্রতিটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এডি ব্যাংককে ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগে পরবর্তী প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। এসব কাগজপত্রের মধ্যে অনলাইন বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন শনাক্তকরণ নম্বরসংবলিত টিএম ফরম থাকতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগের অর্থ যে এডি ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে এসেছে, লভ্যাংশ ও অবসায়নের অর্থও একই ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে যে দেশ থেকে মূল বিনিয়োগের অর্থ এসেছে, সেই দেশেই তা ফেরত পাঠাতে হবে।

অগ্রাধিকার শেয়ার থেকে অর্জিত লভ্যাংশ একই কোম্পানি বা অন্য কোনো কোম্পানির সাধারণ শেয়ারে পুনর্বিনিয়োগের সুযোগও রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শেয়ারের ন্যায্য মূল্য বিবেচনায় নিতে হবে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পাঠানো লভ্যাংশ ও অবসায়নের অর্থের বছরভিত্তিক হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে এডি ব্যাংকগুলোকে। পাশাপাশি উৎসে কর কর্তন এবং বিদেশে পাঠানোর যোগ্য অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে নিরীক্ষকের সনদও সংরক্ষণ করতে হবে।

এ ছাড়া দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির আওতায় কর সুবিধা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ, গ্রাহকের পরিচিতি যাচাই (কেওয়াইসি), অর্থপাচার প্রতিরোধ, সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ এবং প্রচলিত কর আইন অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মনোনীত এডি ব্যাংক পরিবর্তন করতে হলে আগের ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র নিতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব নথি নতুন ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর এবং এ পরিবর্তনের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, সম্পূর্ণ রূপান্তরযোগ্য এবং অপরিশোধ্য প্রেফারেন্স শেয়ারগুলোকে ইকুইটি মূলধন হিসেবে গণ্য করা হবে।

বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর ২০(৩) ধারার আওতায় জারি করা এ সার্কুলার অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ