সার্জিও আগুয়েরোর রেকর্ড গোলে নাপোলিকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নস লীগের শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি।
২৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড আগুয়েরো ৬৯ মিনিটে দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করে সিটিজেনদের হয়ে ১৯৩০ সালে এরিক ব্রুকের করা সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৭৭ গোলের পুরোনো রেকর্ড অতিক্রম করেছেন। ম্যাচ শেষে সিটি বস পেপ গার্দিওলা আগুয়েরোকে ‘কিংবদন্তী’ উপাধি দিতেও কার্পণ্য করেননি। গার্দিওলা বলেছেন, ‘আজ যা সে অর্জন করেছে সেটাই তাকে কিংবদন্তী বানিয়েছে। আগুয়েরো এখন ইতিহাসের অংশ। সে কারণেই আমি তকে একটি কথাই বলবো বিষয়টি উপভোগ করো।’
গ্রুপ পর্বের এখনো দুটি ম্যাচ বাকি, কিন্তু তার আগে টানা পঞ্চমবারের মত নক আউট পর্বের টিকিট পেয়ে গেছে প্রিমিয়ার লীগের শীর্ষে থাকা ম্যান সিটি। এই ম্যাচের আগে আর মাত্র একটি পয়েন্ট হলেই শেষ ১৬’তে উন্নীত হতে পারতো সিটিজেনরা। কিন্তু চার ম্যাচে শতভাগ জয়সহ পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-এফ’র শীর্ষ দল হিসেবেই পরের রাউন্ডে উঠলো গার্দিওলার শিষ্যরা। ইতালিয়ান জায়ান্ট ইউক্রেনিয়ান দল শাখতার দোনেতাস্কের থেকে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। শাখতার গতকাল ডাচ চ্যাম্পিয়ন ফেয়েনুর্ডকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে নক আউট পর্বের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে।
ম্যাচ শেষে গার্দিওলা বলেছেন, শেষ ১৬’তে পৌঁছাতে পেরে আমি দারুন খুশী। এটা আমাদের জন্য অসাধারণ একটি জয় ছিল। প্রথম ২০ মিনিটে তারা আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে খেলেছে। বিশেষ করে ফাওজি গুলাম ছিলেন অসাধারণ। নাপোলি নিজেদের মাঠে সবসময়ই শক্তিশালী। মোট কথা সমর্থকরা আজ একটি দারুন ম্যাচ উপভোগ করেছে।
হাঁটুর ইনজুরির কারণে ৩১ মিনিটে নাপোলি ডিফেন্ডার গুলাম মাঠ ত্যাগের আগে অসাধারণ দক্ষতায় পুরো রক্ষণভাগ সামলেছেন। যে কারনে সান পাওলো স্টেডিয়ামে প্রথমদিকে সিটিজেনরা মোটেই সুবিধা করতে পারেনি। ২১ মিনিটে লোরেনজে ইনসিগনে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন। কিন্তু ৩৪ মিনিটে ম্যান সিটিকে সমতায় ফেরান ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডি।
বিরতির তিন মিনিট পরে জন স্টোনস সফরকারীদের এগিয়ে দেন। কিন্তু স্বাগতিক সমর্থকদের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছাসে জোরগিনগো ৬২ মিনিটে স্পট কিক থেকে নাপোলিকে সমতায় ফেরান। সাত মিনিট পরে আগুয়েরো তার রেকর্ড ভঙ্গকারী গোলটি করলে আবারো এগিয়ে যায় ম্যানচেস্টারের ক্লাবটি। ইনজুরি টাইমে রাহিম স্টার্লিংয়ের গোলে ম্যান সিটির জয় নিশ্চিত হয়।