1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট সমাধানের আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর ফোনের অ্যালার্ট কীভাবে ভূমিকম্পের কয়েক সেকেন্ড আগে লাখ লাখ মানুষকে সতর্ক করে ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫, আহত ৪৩০০ ছাড়াল নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব না দেওয়ায় এনসিপিসহ সাত দলকে শোকজ চীনের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী সেনাপ্রধানের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার সৌদি আরবে প্রবাসীদের সাদা কাগজে স্বাক্ষর কিংবা টিপসই দেওয়া থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছে দূতাবাস দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকা

মেধাশূন্যের গুপ্ত পরিকল্পনা ১৪ ডিসেম্বর

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৫
  • ১২৪ Time View

768১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১। দেশব্যাপী তুমুল যুদ্ধ। যুদ্ধে ভারতীয় বাহিনী তখন সরাসরি অংশ নিয়েছে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে। ওইদিন হতে পূর্ব পাকিস্তানে কারফিউ জারি করা হয়। নিশ্চিত পরাজয় জেনেই কারফিউ জারি করে পাকিস্তান সরকার। যুদ্ধের দামামা বাজালেও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পিছুটান তখন স্পষ্টতই টের পাওয়া যাচ্ছিল। ডিসেম্বরের শুরু থেকে দেশের অনেক এলাকা মুক্ত হতে শুরু করে।

তবে পরাজয়ের আগে ঘাতক পাকিস্তান বাহিনী এবং তাদের দোসররা বাঙালির সর্বোচ্চ ক্ষতি করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ঘটায় ঘাতকেরা। লেখক, বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী, কণ্ঠশিল্পী, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, রাজনীতিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, ভাস্কর, সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, চলচ্চিত্র ও নাটকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সমাজসেবী এবং সংস্কৃতিসেবীদের হত্যার মধ্য দিয়ে তারা জাতিকে মেধাশূন্য করতে ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

’৭১-এর ১০ ডিসেম্বর হতে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের প্রস্তুতি চলে। মূলত ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয়। এ দিন প্রায় দুইশ’ জনের মত বুদ্ধিজীবীকে তাদের বাসা হতে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের চোখে কাপড় বেঁধে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নাখালপাড়া, রাজারবাগসহ অন্যান্য অনেক স্থানে অবস্থিত নির্যাতন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাদের উপর বিভৎস নির্যাতন চালানো হয়। পরে নৃশংসভাবে রায়েরবাজার এবং মিরপুর বধ্যভূমিতে হত্যা করে ফেলে রাখা হয় দেশের বুদ্ধিজীবীদের। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে প্রতি বছর ডিসেম্বরের ১৪ তারিখ ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ হিসেবে পালন করা  হয়।

পাকিস্তানি সামরিক জান্তার সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। আর তাকে তালিকা প্রস্তুতিতে সহযোগিতা ও হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের পেছনে ছিল মূলত জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক গঠিত কুখ্যাত আল বদর বাহিনী। বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রধান ঘাতক ছিলেন বদর বাহিনীর চৌধুরী মঈনুদ্দীন (অপারেশন ইন-চার্জ) ও আশরাফুজ্জামান খান (প্রধান জল্লাদ)। ১৬ ডিসেম্বরের পর আশরাফুজ্জামান খানের নাখালপাড়ার বাড়িতে থেকে তার একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি উদ্ধার করা হয়, যার দুটি পৃষ্ঠায় প্রায় ২০ জন বুদ্ধিজীবীর নাম ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ তাদের কোয়ার্টার নম্বর লেখা ছিল। তার গাড়ির চালক মফিজুদ্দিনের দেয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী রায়ের বাজারের বিল ও মিরপুরের শিয়ালবাড়ির বধ্যভূমি হতে বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবীর গলিত লাশ পাওয়া যায়। যাদের সে নিজ হাতে গুলি করে মেরেছিল।

চৌধুরী মঈনুদ্দীন ৭১-এ সালে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি অবজারভার ভবন হতে বুদ্ধিজীবীদের নাম ঠিকানা রাও ফরমান আলী ও ব্রিগেডিয়ার বশির আহমেদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এছাড়া এ বি এম খালেক মজুমদার (শহীদুল্লাহ কায়সারের হত্যাকারী), মাওলানা আবদুল মান্নান (ডা. আলীম চৌধুরীর হত্যাকারী), আবদুল কাদের মোল্লা (কবি মেহেরুন্নেসার হত্যাকারী) প্রমুখ তাদের সঙ্গে ছিলেন। চট্টগ্রামে প্রধান হত্যাকারী ছিলেন ফজলুল কাদের চৌধুরী ও তার দুই ছেলে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং গিয়াস কাদের চৌধুরী।

৭১-এ ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী সূর্য সন্তানদের হত্যা জাতির অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। দিবসটি উপলক্ষে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “পৃথিবীর ইতিহাসে এক দিনে এত সংখ্যক বুদ্ধিজীবীকে আর কখনো হত্যা করা হয়নি।”

তিনি আরো বলেন, “স্বাধীনতার প্রাক্কালে এমন হত্যাকাণ্ড বিশ্ব মানবতাকে স্তব্ধ করে দেয়। মূলত স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ যাতে মেধাশূন্য হয়ে পড়ে, সেই লক্ষ্যেই এমন বর্বর হত্যাকাণ্ড।”

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। এছাড়া মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনও নানা কর্মসূচি পালন করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ