মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়েও সরকারি তালিকায় তারা পাঁচজনই মুক্তিযোদ্ধা। ভাতাও পাচ্ছেন নিয়মিত। জাল সনদ, অন্যের মুক্তি বার্তা নং দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেদের নামের তালিকা পাকাপোক্ত করেছেন পাঁচ মুক্তিযোদ্ধা।
এমনই অভিযোগ করেছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার স্থাপনদিঘি গ্রামের বাসিন্দা আক্কাস আলী। এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং প্রতিহিংসা বশত করা হয়েছে বলে দাবী করেছেন অভিযুক্ত ওই পাঁচ মুক্তিযোদ্ধা। বিষয়টি তদন্ত করতে কমিটি গঠন করেছে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা খাতুন।
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর কাছে প্রেরিত লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সিংড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী ও সমাজ সেবা অফিসের অফিস সহকারী সিরাজ মিয়া যোগসাজস করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে উপজেলার পাঁজজন ব্যাক্তিকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম তালিকাভুক্ত করে। তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিয়মিত ভাতা উত্তোলন করছে। অথচ তাদের স্বপক্ষে মুক্তিযোদ্ধার কোন প্রমাণাদি নেই। জাল সনদ, অন্যের মুক্তি বার্তা নং দিয়ে তারা মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম উঠিয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল সিংড়া উপজেলার হাতিয়ানদহ গ্রামে গকুল চন্দ্র সরকার মারা গেলেও তাকে ভোটার তালিকায় নাম দেখিয়ে তার স্ত্রী অনিমা রানীকে ভাতা দেয়া হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তারা হলেন, চৌগ্রামের বিশু শেখের ছেলে আব্দুল হামিদ শেখ, কয়রাবাড়ি গ্রামের আয়েশ উদ্দিন মৃধার ছেলে আ স ম আব্দুল কাইয়ুম, কুসুম্বি কালিগঞ্জ গ্রামের হারেজ জামাদারের ছেলে আব্দুর রহিম জামাদার, উত্তর দমদমা গ্রামের রবিউল্লাহর ছেলে তোহিদুল ইসলাম ও হাতিয়ানদহ গ্রামের মৃত গোকুল চন্দ্রের স্ত্রী অনিমা রানী।
এই অভিযোগ পত্রের অনুলিপি পাওয়ার পর সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা খাতুন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ওয়াসিফুল ইসলামকে প্রধান করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশের পর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ওই পাঁচ জন মুক্তিযোদ্ধাকে স্ব-শরীরে তার কার্যালয়ে হাজির হতে বলেছেন।
সিংড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল ওয়দুদ চৌধুরী দুদুর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সিংড়া উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের অফিস সহকারী সিরাজ মিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি মুক্তিযোদ্ধা প্রনয়ণ কমিটির কেউ নন। এই বিষয়ে তার কিছুই জানা নেই।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ও তদন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াসিফুল ইসলাম জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ মোতাবেক আগামী ২২ সেপ্টেম্বর অভিযুক্তদের স্ব স্ব প্রমাণপত্রসহ তার কার্যালয়ে এসে উপস্থাপন করার জন্য বলা হয়েছে।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা খাতুন জানান, এ সংক্রান্ত অভিযোগের কপি ডাকযোগে পাওয়ার পর তদন্তের জন্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।