চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁওয়ের কালুরঘাট মোহরা বিসিক শিল্প এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আলোচনায় আসা সাব্বির হোসেন ওরফে সানিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সানিকে গ্রেপ্তারের পুলিশ দাবি করছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত বড় সাজ্জাদের হয়ে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের ফোন করে চাঁদা দাবি করতেন সানি। টাকা না দিলে তাদের বাসা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলার হুমকি দিতেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ৩৪ বছর বয়সী সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, সানি আগে বিদেশে ছিলেন। বড় সাজ্জাদের নির্দেশনায় গত বছর চট্টগ্রামে আসেন তিনি। এরপর থেকে চাঁদাবাজি, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। বড় সাজ্জাদ ও তার সহযোগী বোরহান উদ্দিনের হয়ে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন সানি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম টিবিএসকে বলেন, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের ফোন নম্বর, ঠিকানা এবং তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে সানিকে দেওয়া হতো। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করে চাদা দাবি করতেন। টাকা না দিলে হামলা ও গুলির হুমকি দিতেন। তাকে গ্রেপ্তারে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়েছে।
এসপি মাসুদ আরও বলেন, বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন সানি। কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্বও তাঁকে দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চক্রটির সদস্যরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হলে সানির নির্দেশে স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাসা কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা চালানো হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।
গত আগস্টে হামজারবাগের প্রবাসী মোহাম্মদ ইউসুফের ছেলে ও প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শওকতকে ফোন করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে সানির বিরুদ্ধে। পুলিশের কাছে থাকা একটি অডিও রেকর্ডে তাকে চাঁদা না দিলে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার হুমকি দিতে শোনা যায়।
পুলিশ জানায়, সানি মুঠোফোনে যোগাযোগের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপেও অডিও বার্তা পাঠিয়ে লোকজনকে ভয়ভীতি দেখাতেন।
একটি অডিও রেকর্ডে সানিকে বলতে শোনা যায়, 'একবার যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে ৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে, কমবে না।'
পুলিশ জানায়, হুমকির ঘটনার পর ওই প্রবাসীর ভবনের ফটকে গুলি করা হয়।
এছাড়া গত ২০ জুন নগরের চান্দগাঁওয়ের কালুরঘাট মোহরা বিসিক শিল্প এলাকায় একটি কারখানার দিকে অস্ত্র তাক করে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩৭ সেকেন্ডের সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে সড়কে দাঁড়িয়ে কারখানার দিকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। পরে সড়ক ধরে এগিয়ে যাওয়ার সময় তাকে পিস্তল উঁচিয়ে আবারও গুলি ছুড়তে দেখা যায়।
জেলা পুলিশ জানায়, সানির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় দুটি মামলা রয়েছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা, সহযোগীদের পরিচয় এবং চক্রটির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে। চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অডিও রেকর্ডসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে।
বড় সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমনের নির্দেশে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.