ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দুই ইনিংসেই উইকেট বিলিয়ে আসেন তাওহিদ হৃদয়। পরিস্থিতির দাবি না থাকলেও বিলাসী শট খেলার চেষ্টায় বিপদ ডেকে আনেন তিনি। ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশের হারের পর আলাদাভাবে কাউকে কাঠগড়ায় তোলার উপায় নেই। তবে ব্যাট হাতে ভীষণ বাজে প্রদর্শনীর পর হৃদয়কে পড়তে হয়েছে তীব্র সমালোচনার মুখে।
শনিবার চতুর্থ দিনে ৮ উইকেটে হেরে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর সংবাদে সম্মেলনে আসা বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানান, ম্যাচ চলাকালেই হৃদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে তার, ‘অবশ্যই, আলোচনা তো হয়েছে, এরই মধ্যে কথা হয়েছে। হৃদয় নিজেও অনুধাবন করতে পেরেছে যে, কী করলে আরেকটু ভালো হতো। হতে পারে (ঠিকভাবে) প্রয়োগের ব্যাপার, হতে পারে ভিন্ন মাইন্ডসেটের ব্যাপার— যেকোনো কিছু হতে পারে।’
তরুণ সতীর্থের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ানো শান্তর বিশ্বাস, ফের এমন পরিস্থিতিতে পড়লে একই ভুল আর করবেন না হৃদয়, ‘আমি এতটুকু বলতে পারি, ও খুব স্মার্ট একটা ছেলে। খুব তাড়াতাড়ি শেখে। ওই জায়গা থেকে আমি বিশ্বাস করি যে, পরবর্তীতে এরকম পরিস্থিতি এলে এক্সিকিউশন হয়তো আরেকটু ভালো করবে অথবা পরিকল্পনা আরও ভালো হবে হৃদয়ের।’
দুই ইনিংসেই হৃদয়ের আউটের ধরন ছিল দৃষ্টিকটু, ব্যাখ্যাতীত ও অবিশ্বাস্য। প্রথম ইনিংসে অযথা স্লগ করার চেষ্টায় বোল্ড হওয়ার পরও শিক্ষা নেননি তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ফের একই কায়দায় এলোমেলো শট খেলে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন।
তবে মাত্র দুটি টেস্ট খেলা হৃদয়ের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ানো শান্তর মতে, এই শটগুলো দিয়ে তাকে যাচাই করা উচিত হবে না, ‘দেখুন, একেকজনের খেলা একেক রকম। চার ইনিংস দিয়ে কোনো ব্যাটসম্যানকে আমি বিচার করতে চাই না। কারও করা উচিত নয়। সবাই জানি, ওর (হৃদয়) সামর্থ্য কতটা, ও কত ভালো ব্যাটসম্যান। বিশেষ করে, সাদা বলের ক্রিকেটে। এমনকি যখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটও খেলে, তখনও লম্বা রান করে।’
বাংলাদেশের দলনেতা মনে করেন, ভুল শুধরে ফিরে আসবেন হৃদয়, ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে (টেস্টে) মাত্র চারটা ইনিংস ব্যাটিং করেছে। আমার পুরোপুরি বিশ্বাস আছে যে, ও খুব ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়াবে এবং বড় বড় রান করবে। এটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করছি না। কারণ, ও এরই মধ্যে প্রমাণ করেছে যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ও কত ভালো ক্রিকেটার।’
এই টেস্টে ২৬ বছর বয়সী হৃদয়ের খেলার কথাই ছিল না। অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম চোটে পড়ায় শেষ মুহূর্তে একাদশে সুযোগ পান তিনি। পায়ের পেশিতে চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়ার আগে প্রথম ইনিংসে আস্থার সঙ্গে ব্যাট করছিলেন তিনি। কিন্তু সেরে উঠে ফেরার পর খেলেন ওই দুটি পাগলাটে শট।