সেঞ্চুরির সুবাস পেয়েও শেষ পর্যন্ত ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন সাদমান ইসলাম।
দিনশেষে লিটনের সঙ্গে হাসিমুখে মাঠ ছাড়ছেন সাদমান, তবে তার মনে অস্বস্তির ছায়াও তাকার কথা। ছবি: বিসিবি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
ড্রেসিং রুমের বাইরে এসে দাঁড়ালেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আগে থেকেই ডাগআউটে বসা কয়েকজন। সবার দৃষ্টি তখন সাদমান ইসলামের দিকে। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৪ রান দূরে বাঁহাতি ওপেনার। কিন্তু বাধ সাধল প্রকৃতি। আলোর স্বল্পতায় বন্ধ হয়ে গেল খেলা।
৫২ মিনিট পর আবার শুরু হলো খেলা। এবার খেলা হলো চার ওভার। তবু তিন অঙ্ক ছোঁয়া হলো না সাদমানের। কাঙ্ক্ষিত মাইলফলক থেকে ১ রান দূরে রয়ে গেলেন অভিজ্ঞ ওপেনার। সঙ্গী হলো একটু স্নায়ুর চাপও। সেটি কেবল তার একারই নয়। বাংলাদেশ দলের ভারপ্রাপ্ত ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন বললেন, এই এক রানের অপেক্ষায় গোটা রাতই স্নায়ুযুদ্ধে কাটবে দলের সবার।
মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে সাদমানের ব্যাটেই প্রথম দিনটি ভালোভাবে পার করেছে বাংলাদেশ। বাহারি স্ট্রোকের আলোকছটা না দেখিয়ে বরং নিজের চেনা রূপের ছাপ রেখে দিন শেষে ১০ চারে ২১৯ বলে তিনি করেছেন ৯৯ রান।
প্রায় আট বছরের ক্যারিয়ারে এই প্রথম কোনো ইনিংসে দুইশর বেশি বল খেললেন সাদমান। একই মাঠে একই দলের বিপক্ষে ২০১৮ সালে নিজের অভিষেক ইনিংসে ১৯৯ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন বাঁহাতি ওপেনার।
প্রথম সেঞ্চুরির জন্য সাদমানের অপেক্ষা করতে হয় ২০২১ সাল পর্যন্ত। হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনি করেন ১২০ রান। এরপর চার বছর বিরতি দিয়ে আবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামে খেলেন ১১৫ রানের অপরাজিত ইনিংস।
তৃতীয় সেঞ্চুরির জন্য অপেক্ষাটা এখনও তুলনামূলক অত বড় হয়নি। ১৭ ইনিংস পর আবার সেই উষ্ণ ছোঁয়ার খুব কাছে ৩১ বছর বয়সী ওপেনার। তবে প্রথম দিন শেষে যেখানে দাঁড়িয়ে তিনি, এই রাতকে মনে হতে পারে অনেক লম্বা।
প্রথম দিনের খেলা শেষে দলের ভারপ্রাপ্ত ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন বললেন, সেঞ্চুরির এই অপেক্ষায় উদ্বেগময় রাত কাটবে পুরো দলেরই।
“নার্ভাস আসলে… আমরা পুরো দলই আসলে দিন শেষে নার্ভাস। সবাই চাচ্ছিলাম যেন ওর একশটা হয়ে যায়। কারণ সে প্রায় ৩০টার মতো টেস্ট খেলেছে, মাত্র ২টা সেঞ্চুরি। আমার মনে হয়, এই সংখ্যাটা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল।
“আশা করব, এটা (সেঞ্চুরি) হলে সে যেন আরও বুঝতে পারে যে আসলে একশ মারতে হলে কী করতে হবে। আমার মনে হয় এই ইনিংসটি তার পরবর্তী ক্যারিয়ারে অনেক সাহায্য করতে পারে।”
৯৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করার অভিজ্ঞতা বা রাতটা পার করার পরামর্শ চাইলে মুশফিকুর রহিম থেকে পেতে পারেন সাদমান। গত বছর জুলাইয়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের শততম টেস্টে প্রথম দিন শেষে ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
দ্বিতীয় দিন সকালে শততম টেস্টে শতরানের বিরল কীর্তি গড়েন মুশফিক। ১৫ মাস পর তার মতো একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি সাদমান। মুশফিকের মতো তিনিও নতুন সকালে পাবেন শতকের উষ্ণ আলিঙ্গন, এমনটাই আশা সালাহ উদ্দীনের।
“এটা (সাদমানের সেঞ্চুরি) দুনিয়ার সবাই আশা করবে। প্রতিটা কোচ এবং দেশের মানুষ সবাই আশা করবে যেন সবাই একশ মারে, পঞ্চাশ মারে। এটা তো আশা করতেই পারি।”
সার্বিয়া ও ব্রাজিলে নির্বাচনি বিজয় এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রশ্ন
মশাই ভরসা: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে নতুন ইতিহাস
ইউরোপের সংকট: অভিবাসন নয়, মূলে জীবনযাত্রার দুর্দশা
কবরের অপেক্ষায় মুক্তিযোদ্ধার লাশ ও আমাদের লজ্জা