বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্সে মোটেও খুশি নন অনেক সমর্থক। তার সাথে যুক্ত হয়েছে আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের বাজে পারফরম্যান্স ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বিশাল হার। তার জন্য কোচ থমাস ডুলিকে নিয়ে প্রচুর আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে এবং বিষয়টি তিনি জানেন। এই সমালোচকদের নিয়ে ডুলি বলেছেন, তারা হয়তো ক্রিকেট বেশি পছন্দ করেন। এজন্য তারা ক্রিকেট নিয়ে লিখুক, ফুটবল নিয়ে নয়। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি শুরুর তৃতীয় দিনে এসে সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছেন জার্মান কোচ থমাস ডুলি। সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনা ও খেলোয়াড়দের উপর আস্থা রাখা নিয়ে ডুলি বলেন, ‘আমি জানি এমন আলোচনা হয়। তবে যারা জিততে চায়, তাদের সবাইকে দলের অংশ হতে হবে। ফুটবল আসলে দলগত খেলা। আপনারা (সাংবাদিকরা) জিততে চান, আমরাও জিততে চাই। খেলোয়াড়েরা জিততে চায়, কোচিং স্টাফও জিততে চায়। আমরা সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়ে পারফর্ম করতে চাই।’ ‘কিন্তু আবারও বলছি, আমরা রোবট নই। সবাই ভুল করে। আপনিও ভুল করেন, আমিও ভুল করি, সবাই ভুল করে। আমরা আশা করি, প্রতিপক্ষও ভুল করবে এবং আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারব। এভাবেই আমরা প্রস্তুতি নিই। ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমার ৪৪ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে আমি অনেক সাফল্য পেয়েছি। আর সাফল্যের পেছনের মূল বিষয়টি সবসময় একই, দল হিসেবে একসঙ্গে কাজ করা।’ ডুলির দলকে নিয়ে যারা নেতিবাচক লিখতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে এ কোচ বলেন, ‘যখন আমরা একটি দল হিসেবে কাজ করি, তখন কেউ কেউ আমাদের ছোট করে দেখাতে বা নেতিবাচক কথা বলতে চাইতে পারে। কিন্তু যারা সত্যিকার অর্থে সাফল্য চায়, তাদের উচিত দলকে সহযোগিতা করা।’ ‘কেউ যদি এই দল সম্পর্কে খারাপ কিছু লিখতে চান, হয়তো তিনি ফুটবলের চেয়ে ক্রিকেট বেশি পছন্দ করেন। তাহলে ক্রিকেট নিয়ে লিখুন, ফুটবল নিয়ে নয়। কারণ ফুটবলে আমাদের এমন মানুষ প্রয়োজন, যারা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে পাশে থাকবেন।’ তবে সমালোচনার বিষয়টিও মেনে নিতে চান ডুলি, ‘আমরা খারাপ খেললে অবশ্যই সমালোচনা করতে পারেন। সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটির বাস্তবতা বুঝতে হবে। দুই দলের মধ্যে মানের (র্যাঙ্কিং) বড় পার্থক্য ছিল। ফুটবল সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকলে বোঝা যায়, এমন ম্যাচ থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে।’ ‘ইতোমধ্যে আমরা অনেকগুলো বৈঠক করেছি। এ নিয়ে আরও তিন-চারটি বৈঠক হবে। কেন এমন হলো, কেন আমরা এই ভুল করলাম, কেন একজন খেলোয়াড় প্রতিপক্ষকে ঠিকমতো মার্ক করতে পারল না, এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা জরুরি। কারণ উন্নতি করতে হলে আমাদের শিখতেই হবে। আপনি যদি জীবনে আরও ভালো করতে চান, তাহলে প্রতিদিনই শিখতে হবে। আমাদেরও সেই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’ সবার কাছে ইতিবাচক মনোভাব আশা করে বাংলাদেশের কোচ আরও বলেন, ‘আমি চাই, সবাই ভালো মানসিকতা নিয়ে থাকুক, দলের সঙ্গে থাকতে পেরে আনন্দিত হোক এবং দেশের জন্য লড়াই করুক। দেশের মানুষ, সমর্থক, ফেডারেশন, নিজেদের পরিবার এবং নিজেদের স্বপ্নের জন্য খেলুক। আমাদের সবার মধ্যে এই মানসিকতা থাকা প্রয়োজন।’ ‘আমার ক্যারিয়ারেও অনেক ব্যর্থতা এসেছে। কিন্তু অহংকার যখন কাজ করে, যখন কেউ শুধু নিজের কথা ভাবে, তখন সমস্যা তৈরি হয়। একইভাবে, গণমাধ্যমে যদি শুধু নেতিবাচক বিষয় তুলে ধরা হয়, কোনো ব্যক্তি বা খেলোয়াড়কে নিয়ে ঘৃণামূলক বক্তব্য দেয়া হয়, তাহলে সেটিও ক্ষতিকর। খেলোয়াড়েরা রোবট নয়। তাদেরও চিন্তাভাবনা আছে, হৃদয় আছে, পরিবার আছে। তাদের অনুভূতি রয়েছে। তাই তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্বশীল হতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করলে সফল হতে পারব। কিন্তু যদি সবাই আলাদা পথে হাঁটি, তাহলে সফল হওয়া অনেক কঠিন হয়ে যাবে।’