1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ন

শাহ আমানতে আরো ৭ ফ্লাইট বাতিল, ২৬ দিনে ১৮৬

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৯ Time View

​মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ঘনঘটা কেবল দেশান্তরি মানুষের মনে আতঙ্কই ছড়াচ্ছে না, বরং হাজার হাজার প্রবাসীর রুটি-রুজির পথকে করে তুলেছে অনিশ্চিত। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ২৬ দিনে ফ্লাইট বাতিলের যে মিছিল শুরু হয়েছে, তাতে যোগ হলো আরো ৭টি ফ্লাইট।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থায় এ পর্যন্ত (২৫ মার্চ) মোট ১৮৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।

​গতকাল বুধবারের (২৫ মার্চ) প্রেস বুলেটিন অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এবং এয়ার আরাবিয়ার বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা তীব্র হওয়ায় ফ্লাইট চলাচল পুনরায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ​

টার্মিনালের সামনে বসে অঝোরে কাঁদছিলেন ফেনীর প্রবাসী সলিমুল্লাহ। তার চিত্রটি বর্তমান সংকটের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তিনি জানান, ‘অনেক কষ্টে ধারের টাকা শোধ করে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছিলাম।
আজ ফ্লাইট ছিল শারজাহর। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় আমার সব শেষ। মালিক বলে দিয়েছে আজ না পৌঁছালে আমার জায়গায় অন্য লোক নেবে। আমার পরিবার এখন পথে বসবে।

​একই চিত্র দেখা গেছে রাউজানের প্রবাসী যুবক আরফাতের ক্ষেত্রে। তার আবুধাবির ফ্লাইটটি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ছিল। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘তিনবার তারিখ পেছাল। এয়ারলাইন্স বলছে পরিস্থিতির ওপর তাদের হাত নেই। কিন্তু আমাদের পকেট তো খালি হয়ে যাচ্ছে।
একে তো যুদ্ধের ভয়, তার ওপর চাকরি হারানোর আতঙ্ক—আমরা এখন কার কাছে যাব?’

​সালাম এয়ার, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলার ফ্লাইটগুলো শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি রুটে প্রায় পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ায় চট্টগ্রামের প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে, আবার অনেকে জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফিরতে পারছেন না।

​বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যদিও কিছু ফ্লাইট সচল আছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা যে গতিতে বাড়ছে, তাতে এই স্থবিরতা কবে কাটবে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। শাহ আমানত বিমানবন্দরের লাউঞ্জগুলোতে এখন কেবল অপেক্ষার প্রহর আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দীর্ঘশ্বাস। ১৮৬টি ফ্লাইট বাতিলের অর্থ কেবল কারিগরি সমস্যা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো পরিবারের কান্না আর হাহাকার।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ