1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ন

সংরক্ষিত নারী আসনেও ‘এক পরিবারে এক প্রার্থী’ নীতি

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৯ Time View

ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনেও ‘এক পরিবারে এক প্রার্থী’ নীতি অবলম্বন করবে বিএনপি। এতে অনেক নতুন মুখের সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। যেসব পরিবারে ইতোমধ্যে এমপি ও মন্ত্রী হয়েছেন, তাদের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে।

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান; গঠন করা হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভাও। এবার আলোচনায় সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নির্বাচন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছেন। দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তারা। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা নেত্রী থেকে শুরু করে তরুণ মুখ– অনেকেই আছেন এই তৎপরতায়।

সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, যে দল সাধারণ আসনে যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২১২টি আসনে জয় পেয়েছে। সে হিসাবে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাবে দলটি।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) প্রার্থীরা সাতটি আসন পেয়েছেন। ফলে স্বতন্ত্ররাও সম্মিলিতভাবে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারেন। আর তাদের যদি বিএনপিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে বিএনপির নারী আসন দাঁড়াবে ৩৭টির মতো।

গত বুধবার নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানান, সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যে করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ঈদের আগেই এ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে চায় ইসি। সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, দলের নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে এক পরিবার এক প্রার্থী– এই নীতি মেনে চলা হবে। তারা জানান, এতে অনেক পরিচিত মুখ বাদ পড়তে পারেন। এই নীতি পুরোপুরি মানা হলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের স্ত্রী ও মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুন অর রশীদের স্ত্রী আসিফা আশরাফী পাপিয়া, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মেয়ে বিএনপি নেত্রী অপর্ণা রায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ ছাড়াও অনেকে এ তালিকায় থাকবেন।

তবে বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের অবদান ও ত্যাগের কারণে শেষ পর্যন্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কাউকে কাউকে মনোনয়ন দিতেও পারেন বলে মনে করছেন নারীনেত্রীদের অনেকে। আবার অনেকে বলেন, অন্য রাজনৈতিক দলের নারী সংগঠনের তুলনায় মহিলা দল নির্বাচনে নিষ্ক্রিয় ও পরিকল্পনাহীন ছিল। অথচ দেশের অর্ধেক ভোটার নারী। নির্বাচনে জামায়াতের মহিলা শাখা যেভাবে কাজ করেছে সে তুলনায় জাতীয়তাবাদী মহিলা দল তেমন আলোচনায় ছিল না। তাদের কোনো পরিকল্পনা বা কৌশল চোখে পড়েনি।

তবে দলের যেসব নারীনেত্রী বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের অনেককে উচ্চকক্ষে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। ফলে বিগত দিনের ত্যাগী আর যোগ্যদের মধ্য থেকেই এবারের সংরক্ষিত আসনে এমপি মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, শুধু সুপারিশ নয়, মাঠ পর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার ওপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানান, প্রাথমিকভাবে একটি বড় তালিকা প্রস্তুত করে তা থেকে পর্যায়ক্রমে সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হবে। পরে সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় এবারের সংরক্ষিত আসনে যাদের নাম বেশি আলোচিত তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন। আবার আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাঁকে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার আলোচনাও আছে। তাঁর অনুসারীরা বলছেন, বিলকিস জাহান শিরিন বরিশাল-৫ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দলের সিদ্ধান্তে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। এবার তাঁকে মূল্যায়ন করা না হলে মাঠের ত্যাগীরা নিরুৎসাহিত হবেন।

বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, ‘মোট আসন অনুযায়ী বরিশালে তিনটি অথবা দুটি দেওয়া হতে পারে। ২০০১ সালে সংরক্ষিত আসনের এমপি ছিলাম। তাই এবার সাধারণ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা ছিল। সেটা না হওয়ায় এখন দলের মূল্যায়নের অপেক্ষায় আছি।’

এর বাইরে মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সাবেক এমপি শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন ছাড়াও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীম উদ্‌দীন মওদুদ, সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মরহুম শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, নাদিয়া পাঠান পাপন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের সাবেক সদস্য সচিব নাসিমা আক্তার কেয়া, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত নাসির উদ্দিন পিন্টুর বোন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেতে চান এবং আলোচনায় আছেন।

এর বাইরে সাবেক ছাত্রদল নেত্রী শওকত আরা ঊর্মি ও শাহিনুর সাগর, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম এবং ফটিকছড়ির গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সিরাজ চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী সুলতানা পারভীন, ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি ও ফুলবাড়ী উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ফাহসিনা হক লিরার নাম আলোচনায় আছে। লিরা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বলেন, ‘দলকে ভালোবেসে আমার স্বামী নিহত হয়েছেন, আপন ভাইকে কারাগারে হত্যা করা হয়েছে। নিজেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম। দলের নেতারা যখন কারাগারে গেছেন বা আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছেন, তখন আমরাই রাজপথে ছিলাম। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মিছিলের শেষ কর্মীকেও তিনি মূল্যায়ন করবেন। এখন দলের সুদিনে ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশা করছি।’

বরিশাল-৩ আসনের সাবেক এমপি মোশাররফ হোসেন মঙ্গুর মেয়ে অধ্যাপক ডা. জাহানারা লাইজুও পদপ্রত্যাশী। তিনি বিএনপির চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক। লাইজু বলেন, ‘বরিশাল জাসাসের সদস্য হয়ে ৯০-এর গণআন্দোলনে কাজ করেছি। ড্যাবের হয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। বাবার মতো দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। দলের দুর্দিনে রাজপথে ছিলাম।’

পটুয়াখালী জেলা মহিলা দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আনোয়ারা খানও সংরক্ষিত আসনের এমপি হওয়ার দৌড়ে আছেন। তিনি পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সাবেক এমপি শাহজাহান খানের স্ত্রী। ২০২৩ সালে বরিশালে বিভাগীয় সমাবেশে যাওয়ার পথে শাহজাহান খান আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

সংরক্ষিত আসনে এমপি প্রত্যাশার কথা স্বীকার করে আনোয়ারা খান বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী সব কর্মসূচিতে তিনি রাজধানীতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার দিন প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।

পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এলিজা জামান সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে চান। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ।

সংরক্ষিত আসনের বাইরে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন ও কনকচাঁপাকে উচ্চকক্ষে দেখা যেতে পারে। তাদের মতো বিগত দিনে যেসব পেশাজীবী নারী আন্দোলন-সংগ্রাম ছাড়াও ফ্যাসিবাদী আন্দোলনে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছিলেন, তাদের এবারের মূল্যায়নের তালিকায় রাখা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ