ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব দাখিল না করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ৪৪গ (১) অনুযায়ী নির্বাচিত প্রার্থীর নাম গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী এজেন্টকে ফরম-২২ অনুযায়ী এফিডেভিটসহ ব্যয়ের হিসাব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। নির্বাচনী এজেন্ট না থাকলে প্রার্থী নিজেই এজেন্ট হিসেবে বিবেচিত হবেন।
নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর ৩১ বিধি অনুসারে নির্ধারিত ফরম-২২ক, ২২খ ও ২২গ ব্যবহার করে ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে হলফনামাও জমা দিতে হবে। রিটার্ন ও এফিডেভিটের অনুলিপি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও পাঠানো বাধ্যতামূলক।
পরিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিজয়ী ও পরাজিত—সব প্রার্থীকেই ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হবে। এমনকি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থী বা যারা কোনো ব্যয় করেননি, তাদেরও ফরমে তা উল্লেখ করে হিসাব জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
ব্যয় রিটার্ন যথাযথভাবে দাখিল না করলে বা আদেশ লঙ্ঘন করলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ৭৪ অনুযায়ী অপরাধ গণ্য হবে। এতে দোষী প্রার্থীকে ন্যূনতম দুই বছর ও সর্বোচ্চ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী বিধান লঙ্ঘন করলে রিটার্নিং কর্মকর্তা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন। নির্বাচনের বিরুদ্ধে মামলা না থাকলে ছয় মাসের মধ্যে মামলা করতে হবে। হাইকোর্টে নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকলে আদালতের আদেশের তিন মাসের মধ্যে মামলা দায়ের করা যাবে, যার জন্য ইসির অনুমতি লাগবে না।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৪৪ঘ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য তহবিলের উৎস, ব্যয়ের রিটার্ন ও সংশ্লিষ্ট দলিল-দস্তাবেজ রিটার্নিং কর্মকর্তা এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করবেন।