ভারতের মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে একটি সরকারি কলেজে মধ্যরাতে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং ও বলিউড অভিনেতা আমির খানকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ এবং সেখানে সময় কাটানোর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত ৪ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন গভীর রাতে, রাত ১টার পর অরিজিৎ সিং ও আমির খান প্রায় ২০ জন সঙ্গী এবং ১০টি মোটরসাইকেল নিয়ে জিয়াগঞ্জের রানী ধন্যা কুমারী সরকারি কলেজে প্রবেশ করেন।
কলেজ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই মধ্যরাতে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা।
কলেজ সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, আমির এবং অরজিৎ ওই কলেজে প্রায় দেড় ঘণ্টার মতো অবস্থান করেন। ই সময় কলেজের ইনডোর গেমস হলে ব্যাডমিন্টন খেলেন এবং কিছু ভিডিও ধারণ করেন। রাত আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটে তারা কলেজ চত্বর ত্যাগ করেন।
জিয়াগঞ্জের ওই কলেজের অধ্যক্ষ অজয় অধিকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানান।
তিনি বলেন, অনুমতি ছাড়া রাতের বেলায় সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ গ্রহণযোগ্য নয়। খ্যাতিমান ব্যক্তিরা কি নিয়মের বাইরে গিয়ে এমন কাজ করতে পারেন? সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি এতটাই অবহেলার পাত্র?
অধ্যক্ষ আরও দাবি করেন, স্থানীয় নাইট গার্ডকে প্রভাবিত করে কলেজে প্রবেশ করেছেন এই দুই তারকা। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই রাতের বেলায় কলেজ প্রাঙ্গণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা আইনবিরোধী।।
সিসিটিভি ফুটেজসহ দেওয়া অধ্যক্ষের দুটি পোস্ট দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা তৈরি হয়। যদিও কিছুক্ষণ পরেই সেই পোস্ট সমূহ মুছে ফেলেন অধ্যক্ষ।
পরবর্তী এক পোস্টে তিনি জানান, বিশেষ একটি মহলের চাপ ও অনুরোধের কারণে পোস্টগুলো সরাতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও কারা বা কী কারণে সেই চাপ দিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
উল্লেখ্য, অরিজিৎ সিংয়ের গ্রামের বাড়ি জিয়াগঞ্জেই অবস্থিত। সেখানেই তার স্টুডিও ও বাড়ি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন আমির খান। দুজনের একসঙ্গে সময় কাটানো, ঘুড়ি ওড়ানো কিংবা আড্ডার ছবি ভক্তদের মধ্যে আনন্দের সাড়া ফেললেও, সরকারি কলেজে মধ্যরাতে অনধিকার প্রবেশের ঘটনাটি স্থানীয় একাংশের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমির খান বা অরিজিৎ সিংয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।