1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ন

জিম্মি ও চাঁদা দাবি: নোবিপ্রবিতে নির্বাহী প্রকৌশলীকে ১২ তারিখ পর ‘পা ভেঙে দেওয়ার’ হুমকি ছাত্রদল সভাপতির

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৪৯ Time View

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. সৈয়দ আহমদকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং ‘পা ভেঙে দেওয়ার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে। প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকার দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের বিল পাস করাকে কেন্দ্র করে এই হুমকির ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে আরসিসি রাস্তা এবং ১ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে পরিবহন শেড নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এই কাজের বিল উত্তাপনের প্রক্রিয়া শুরু হলে তাতে বাধা দেয় শাখা ছাত্রদল।

ভুক্তভোগী প্রকৌশলী সৈয়দ আহমদ জানান, গত ২৮ জানুয়ারি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান তাকে ফোন করে বিল উত্থাপন নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন। এর কিছুক্ষণ পর সভাপতি জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসিব একটি গ্রুপ কলে তাকে যুক্ত করেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে জাহিদ তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বলেন যে, ১২ তারিখের পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না; এমনকি ঢুকলে তার ‘ঠেং (পা) ভেঙে দেওয়া’ হবে।

শুধু প্রকৌশলী নন, উক্ত প্রকল্পের ম্যানেজার ও স্থানীয় ঠিকাদার মো. ইমদাদুল করিম রুমেলকেও জিম্মি করার অভিযোগ উঠেছে। রুমেলের ভাষ্যমতে, গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সংস্কারাধীন ক্যাফেটেরিয়ার ভেতর নিয়ে জিম্মি করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম এসে এক লাখ টাকা দিলে বিষয়টি মীমাংসা হবে বলে জানান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ‘ছাত্রলীগের দোসর’ সাজিয়ে প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করা হয় এবং মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়া পেতে হয়।

হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে ছাত্রদল সভাপতি মো. জাহিদ হাসান বলেন, “যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিল উত্থাপনের কাজ প্রশাসনের, আমাদের নয়। আমি এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে চিনিই না।” সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান ও সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলামও তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ‘ষড়যন্ত্র’ ও ‘বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ (মুরাদ) বলেন, “প্রকৌশলীর সাথে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ছাত্রদল সভাপতি আমাকে ফোন করে ঠিকাদারকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ দাবি করলেও আমি জানিয়ে দিয়েছি, কাজের সাথে রাজনীতির সম্পর্ক নেই। কাজ শেষ হলে ঠিকাদার নিয়ম অনুযায়ী বিল পাবেন।”

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা কারো বিল আটকে রাখি না। প্রকৌশলীকে হুমকির বিষয়ে এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ