বলিউডে ফের আতঙ্ক ছড়াল গ্যাংস্টার হিংসা। শনিবার গভীর রাতে পরিচালক রোহিত শেঠির মুম্বাইয়ের বাড়িকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এই হামলার দায় স্বীকার করেছে কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের দল। পাশাপাশি হুমকিমূলক বার্তাও ছড়ানো হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত প্রায় পৌনে একটার দিকে জুহু এলাকায় অবস্থিত রোহিত শেঠির বাড়ির দিকে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। অন্তত পাঁচ রাউন্ড গুলির শব্দ পাওয়া গিয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। এর মধ্যে একটি গুলি আবাসনের জিমের কাচের দেওয়ালে গিয়ে লাগে। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কেউ আহত হননি।
ঘটনার পর দ্রুত তদন্তে নামে মুম্বাই ও পুণে পুলিশ। রবিবার পুণের ধয়ারি ও কার্ভেনগর এলাকা থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। ধৃতদের নাম—আমন আনন্দ মারোতে (২৭), আদিত্য জ্ঞানেশ্বর গায়কি (১৯), সিদ্ধার্থ দীপক যেনপুরে (২০), সমর্থ শিবশরণ পোমাজি (১৮) এবং স্বপ্নীল সকত (২৩)। পাঁচজনের বিরুদ্ধেই খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করা হয়েছে।
এর মধ্যেই আরজু বিষ্ণোই নামে পরিচিত এক ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে গুলিবর্ষণের দায় স্বীকার করেন। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, রোহিত শেঠিকে আগেও একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল।
পোস্টে লেখা হয়, “আমরা পরিচালক রোহিত শেঠির মুম্বাইয়ের বাড়িতে গুলিবর্ষণের দায় নিচ্ছি। আমাদের কাজে হস্তক্ষেপ না করতে বহুবার বলা হয়েছিল। কিন্তু সে শোনেনি।
”
হুমকির সুর আরও চড়া করে তিনি লেখেন, “এটা শুধু একটা সতর্কবার্তা। যদি আমাদের কথা না মানা হয়, পরের গুলিটা বাড়ির বাইরে নয়—শোবার ঘরে ঢুকে বুকে গিয়ে লাগবে। গোটা বলিউডের জন্য এটা আমাদের বার্তা। নিজেদের সীমা বুঝে চলুন, না হলে অবস্থা বাবা সিদ্দিকির থেকেও ভয়াবহ হবে।”
পোস্টের শেষ অংশে আরও ভয়ংকর ভাষায় লেখা হয়, “শত্রুদের জন্য বার্তা—প্রস্তুত থাকো। একটাই দল ছিল, আছে আর থাকবে—লরেন্স বিষ্ণোইয়ের দল।”
উল্লেখ্য, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকির তালিকায় আগে থেকেই রয়েছেন সালমান খান। অতীতে অভিনেতাকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রকাশ্যে বাবা সিদ্দিকিকে গুলি করে হত্যার দায়ও স্বীকার করেছিল এই গোষ্ঠী।
রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনাটি সেই ধারাবাহিক হুমকি ও সন্ত্রাসেরই নতুন অধ্যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুরো বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।