ভারতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে অনিশ্চয়তা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। দেশটিতে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে একাধিক ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করায় টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইংল্যান্ডের আপত্তির পর এবার উদ্বেগ জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়াও।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ড ইতিমধ্যে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের আপত্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।
নিপাহ ভাইরাসে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিকেই এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে দেশটি। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্ক বাটলার জানিয়েছেন, নিপাহ পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আপাতত অসুস্থ যাত্রীদের জন্য বিদ্যমান স্বাস্থ্যবিধিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, তবে অস্ট্রেলিয়া সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হলেও অস্ট্রেলিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে এখনো নতুন কোনো বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিপাহ ভাইরাস করোনাভাইরাসের চেয়েও বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডিসি) স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য মাস্ক, গগলস ও পিপিই ব্যবহারের কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা জোরদার হওয়ায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যেও সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাকিস্তানি গণমাধ্যম আরো জানিয়েছে, ইংল্যান্ডের অবস্থানের পর ইউরোপের কয়েকটি দেশও ভারতে খেলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। এমনকি পুরো টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২০ দল নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপের মোট ৫৫টি ম্যাচের মধ্যে ২০টি শ্রীলঙ্কায় এবং বাকি ৩৫টি ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে।
তবে শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তন করা আইসিসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কারণ এর আগে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল আইসিসি, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।