1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
যে দেশে চাকরির অনিশ্চয়তা, সেখানে টিকটক করে ডলার কামানো স্বাভাবিক : অর্ষা বিশ্ববাজারে বাড়লো সোনা-তেলের দাম, শেয়ারবাজারে ধস সংঘাতে সঙ্গে জড়িত না এমন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিএনপিতে স্বাগত চাঁদে আঘাত হানতে পারে গ্রহাণু, পৃথিবীতে ভয়াবহ উল্কাবৃষ্টির আশঙ্কা জামায়াতের ইতিবাচক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাংলাদেশে একমাত্র আমরাই ইসলামি দল: চরমোনাই পীর মার্কিন ভিসানীতিতে পরিবর্তন, ভারতীয়দের মাথায় হাত শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহত, আমিরের কড়া বার্তা তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন আজ আবারও রাজনীতি করতে গিয়ে খুন হতে হবে কল্পনা করিনি : হাসনাত আবদুল্লাহ

বিশ্ববাজারে বাড়লো সোনা-তেলের দাম, শেয়ারবাজারে ধস

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১১ Time View

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি জোরালো করায় বিশ্ববাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আরও এক দফা রেকর্ড গড়ে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৫০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। একই সঙ্গে বেড়েছে তেলের দাম। অন্যদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন শেয়ারবাজারে দেখা গেছে বড় ধরনের পতন।

এর আগে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সোনার দাম প্রতি আউন্সে রেকর্ড পাঁচ হাজার ১০০ ডলার ছাড়ায়।

নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত মূল্যবান ধাতুর চাহিদা বাড়ায় শুধু সোনা-ই নয়, রুপার দামও নতুন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলারের মান কিছুটা দুর্বল হওয়াও সোনা-রুপার দামে উল্লম্ফনের একটি বড় কারণ। বাজারে জল্পনা চলছে, বিশ্ব অর্থনীতির রিজার্ভ মুদ্রা ডলারের মান কিছুটা কমলেও তাতে আপত্তি নেই ট্রাম্পের।

ইরান ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে, আর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পৌঁছেছে গত আগস্টের পর সর্বোচ্চ স্তরে। তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ।

বাজারে একপর্যায়ে সোনার দাম ৩০০ ডলারেরও বেশি বেড়ে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৮৮ দশমিক ৭১ ডলারে পৌঁছে যায়। এই উল্লম্ফন আসে তখনই, যখন ট্রাম্প বলেন, ইরানের উচিত তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসা ও খুব দ্রুত একটি চুক্তি করে ফেলা।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, আশা করি, ইরান দ্রুত ‘আলোচনার টেবিলে’ আসবে এবং একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করবে। কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, বিষয়টি সত্যিই অত্যন্ত জরুরি!

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরবর্তী আক্রমণ হবে আরও ভয়াবহ! দয়া করে আবার এমন পরিস্থিতি তৈরি করবেন না। এখানে তিনি গত জুনে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে চালানো মার্কিন হামলার কথাই ইঙ্গিত করেন।

এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ‘একটি বিশাল নৌবহর (আর্মাডা)’ পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। এই বহরের নেতৃত্বে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। প্রেসিডেন্ট বলেন, এই বহর প্রয়োজনে দ্রুত, শক্তি ও সহিংসতার সঙ্গে নিজেদের মিশন বাস্তবায়নে প্রস্তুত, আগ্রহী ও সক্ষম।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) শেয়ারবাজারে ছিল উল্টো চিত্র। টোকিও, হংকং, সাংহাই, সিডনি ও সিউল- সবকটি প্রধান বাজারেই সূচক নিম্নমুখী।

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা শেয়ারবাজারে ধস নামে প্রায় ৮ শতাংশ। বুধবারের (২৮ জানুয়ারি) বড় পতনের পর এটি আরও গভীর হয়েছে। ওই দিন সূচক প্রস্তুতকারী সংস্থা এমএসসিআই নিয়ন্ত্রকদের কাছে মালিকানা সংক্রান্ত উদ্বেগ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানায় ও ইন্দোনেশিয়ার শেয়ারকে তাদের সূচকে যুক্ত করা বা ওজন বাড়ানো থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।

আবার অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে চাপে রয়েছে ডলার। যদিও মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট সিএনবিসিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই শক্তিশালী ডলারের নীতিতে বিশ্বাস করে। তার একদিন আগেই ট্রাম্প ডলারের সাম্প্রতিক দুর্বলতা নিয়ে মন্তব্য করে বলেছিলেন, এটি ভালোই করছে।

অলস্প্রিং গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টসের বিশ্লেষক ম্যাথিয়াস শাইবার ও রুশাভ আমিন বলেন, এখন সবার নজর ট্রাম্প কাকে ফেডের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করেন, তার দিকে। কারণ মে মাসে জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

তারা এক যৌথ মন্তব্যে লেখেন, নতুন ফেড চেয়ারম্যান ঘোষণাই হবে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। দৌড়টি এখনো খোলা, তবে সাধারণভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জেরোম পাওয়েলের জায়গায় অপেক্ষাকৃত নরম নীতির পক্ষে থাকা কেউ দায়িত্ব নিতে পারেন।

তারা আরও বলেন, সুদের হার কমাতে ফেডের ওপর সরকারের চাপ চলতি বছর জুড়েই একটি ধারাবাহিক বিষয় হয়ে থাকবে।

বাজার বিশ্লেষক স্টিফেন ইনেস বলেন, সোনার এই অস্বাভাবিক উত্থান আরও গভীর কাঠামোগত উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি লেখেন, এশিয়ার শুরুর দিকেই যখন সোনা ৫ হাজার ৫০০ ডলারের সীমা ভেঙে ফেলল, তখন এটি আর সাধারণ পণ্যের মতো লেনদেন হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, সোনা হলো আস্থার বিপরীত প্রতিচ্ছবি। নীতিনির্ধারণের ওপর বিশ্বাস দুর্বল হলে সোনা আর শুধু ঝুঁকি হেজ (বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য লোকসান বা প্রতিকূল মূল্য পরিবর্তন থেকে বাঁচার কৌশল, যা অনেকটা বীমা পলিসির মতো কাজ করে) হিসেবে থাকে না, বরং বিকল্প সম্পদে পরিণত হয়। আমরা এখন ঠিক সেটাই দেখছি। এটি মন্দার ভয় নয়; বরং কাগুজে মুদ্রা ব্যবস্থাপনার ওপর সন্দেহ।

সূত্র: এএফপি

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ