1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
জিয়া নন, স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক ড. অলি আহমদ: চট্টগ্রাম সমাবেশে ডা. শফিকুর অর্থ আত্মসাৎ: মা-স্ত্রীসহ গায়ক নোবেলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা নারীদের নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য দুঃখজনক: আমীর খসরু আমার আসনেই যদি ভয় দেখানো হয়, অন্যদের আসনে কী অবস্থা বুঝে নেন: নাহিদ ইসলাম ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১০ জনের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন মাওলানা ইউসুফ জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে মাগুরায় কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত রাজধানীতে ৩ দিনব্যাপী লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপো উদ্বোধন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ডিএমপির হটলাইন নম্বর চালু ইডিসিএলের এমডি সামাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

জ্বালানি প্রকল্পে এডিবির ১৭০০ কোটি ডলার বিনিয়োগঝুঁকিতে বাংলাদেশ

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৫
  • ৩৩ Time View

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের শতাধিক প্রকল্পে ১৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১৭৩৪ কোটি ডলার) বিনিয়োগ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। যার অধিকাংশই জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বলে জানিয়েছে এনজিও ফোরাম অন এডিবি। সংস্থাটি বলছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের এমন একমুখী বিনিয়োগ নীতির ফলে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ক্রমে ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এডিবর বিনিয়োগ ঝুঁকি উন্মোচন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উঠে আসে।

এডিবির ৫৮তম বার্ষিক সাধারণ সভার আগে যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এনজিও ফোরাম ও কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভাইরোনমেন্টাল একশন নেটওয়ার্ক (ক্লিন)। এ সময় বক্তারা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এডিবির দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ মডেলের কড়া সমালোচনা করেন। তারা জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে এডিবির প্রতি আহ্বান জানান।

এনজিও ফোরামের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৭৩ সাল থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এডিবির বিনিয়োগকৃত প্রকল্প ১০৬টি।
এর মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন, তেল-গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ খাতে এডিবির বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে এডিবির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় না নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ফলে এডিবির ৯ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৬৭টি জ্বালানি প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। যা এশিয়ার বহুজাতিক আর্থিক সংস্থাটির পরিকল্পনা, দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এ ছাড়া সংস্থাটির একাধিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও গ্যাস সঞ্চালন লাইন বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষণ বলছে, এডিবির ৬৫ শতাংশ প্রকল্পে কোনো প্রকার সুরক্ষা শ্রেণিকরণই নেই, যা স্পষ্টতই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশগত প্রকল্পে বরাদ্দ ৭.৯৫ শতাংশ, আর বাস্তুচ্যুতি ও স্থানীয়দের সুরক্ষায় বরাদ্দ মাত্র ০.৩৫ শতাংশ।

এনজিও ফোরাম অব এডিবির জীবাশ্ম জ্বালানি প্রচারাভিযানকারী শারমিন বৃষ্টি বলেন, ‘এই পরিসংখ্যান এডিবির টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিকে গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।’

এনজিও ফোরাম অন এডিবির নির্বাহী পরিচালক রায়ান হাসান এডিবির জীবাশ্ম জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য খাতে বিনিয়োগের বৈষম্য ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এডিবি বাংলাদেশে দুই হাজার ৮৮৪.৮ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য মোট ৪.৮৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।
যার মধ্যে ৮২.৯ শতাংশ অর্থায়ন জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্পে, মাত্র ২.৫৫ শতাংশ সৌরবিদ্যুতে এবং বায়ু বিদ্যুতে এখন পর্যন্ত কোনো বিনিয়োগ নেই। প্রতি মেগাওয়াটে জীবাশ্ম-জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ ২.০৪ মিলিয়ন ডলার, যেখানে সৌরবিদ্যুত প্রকল্পে তা মাত্র ০.৫১ মিলিয়ন ডলার, যা বেশ উদ্বেগজনক।’

তিনি আরো বলেন, ‘এডিবির জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি নীতি সংস্কার প্রয়োজন, যেখানে সক্রিয়ভাবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ধীরে ধীরে বন্ধ করার কৌশল গ্রহণ করতে হবে, একটি ন্যায়সংগত ও সমতা ভিত্তিক জ্বালানি রূপান্তরের নেতৃত্ব দিতে হবে। প্যারিস চুক্তির সঙ্গে অর্থায়নকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে যাতে কার্বন নির্ভরতা রোধ করা যায়’।

এডিবির বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে অর্থায়ন বিশ্লেষণ করে ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, এডিবি ভেড়ামারা থেকে খুলনা পর্যন্ত ১৬৫ কিলোমিটারের দীর্ঘ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশে গ্যাস নেই জেনেও তারা এ কাজটি করেছে। কল্পিত গ্যাসের ওপর নির্ভর করে আবার খুলনায় ২২৫ ও ৮০০ মেগাওয়াটের দুটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রে বিনিয়োগ করেছে। অথচ এসব প্রকল্প গ্যাসের অভাবে বছরের পর বছর বসে আছে, জনগণের ওপর বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে। একটি বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংক হিসেবে এডিবি এ কাজটি করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ জলবায়ু সংকটের সম্মুখভাগে দাঁড়িয়ে আছে, অথচ এডিবি এখনও জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পে অর্থায়ন করে চলেছে, যা আমাদের ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলে আমাদের বাসযোগ্য ভবিষ্যত্ কেড়ে নিচ্ছে। ফলে এডিবিকে অবশ্যই তার জ্বালানি নীতি পরিবর্তন করে শতভাগ নবায়নযোগ্য উেসর দিকে যেতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এনজিও ফোরাম অন এডিবি এবং ক্লিন- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কাছে তিনটি প্রধান দাবি উপস্থাপন করে। এগুলো হল-জীবাশ্ম জ্বালানিতে সকল অর্থায়ন বন্ধ এবং ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরে সমর্থন, প্রকৃত সুরক্ষা বাস্তবায়ন ও এফপিআইসি (ফ্রি, প্রায়োর এবং ইনফর্মড কনসেন্ট) নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকারের প্রতি প্রতিশ্রুতি রাখা, এবং কার্বন মার্কেট, গ্রিনওয়াশিং ও কর্পোরেট স্বার্থের নামে ছদ্ম জলবায়ু সমাধান প্রত্যাখ্যান করা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ