1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

সমাধিতে নেই ৩৬ বছর আগে নিখোঁজ কিশোরী ইম্যানুয়েলা, অস্বস্তিতে ভ্যাটিক্যান

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৯
  • ২৫ Time View

৩৬ বছর আগে বাঁশি শেখার ক্লাস শেষে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছিলেন ১৫ বছরের কিশোরী ইম্যানুয়েলা অর্লান্ডি। শেষ দেখা গিয়েছিল তাঁকে রোমের কেন্দ্রস্থলের একটি বাসস্ট্যান্ডে। এরপর তিনি যেন হঠাৎ করেই হাওয়ায় মিলিয়ে যান। বেশ ছোট একটি নগর সিটি স্টেট ভ্যাটিক্যান। সেখান থেকে কোথায় যেতে পারে ইম্যানুয়েলা? বিষয়টি রহস্য হিসেবেই রয়েছে এত বছর ধরে।

১৯৮৩ সালের ২২ জুনের সে ঘটনার পর থেকে হাসিখুশি, ঝলমলে ইম্যানুয়েলাকে আর দেখা যায়নি কোথাও। এরপর সম্ভাব্য সব স্থানে তন্নতন্ন করে মেয়েকে খুঁজেছে পুলিশ। খুঁজতে ত্রুটি রাখেনি অর্লান্ডি পরিবার। কিন্তু জীবিত বা মৃত অবস্থায় কোথাও পাওয়া যায়নি তাঁকে। মেলেনি কোনো দেহাবশেষও।

ইম্যানুয়েলার বাবা ভ্যাটিক্যানের কর্মী। পুলিশের ওপর তাঁর হদিস জানার একটা চাপও ছিল। কেউ যদি তাকে তুলে নিয়ে যায় বা অপহরণও করে, কিংবা খুন করে, তা হলেও তো কোনও না কোনও হদিস পাওয়া যাবে! কিন্তু তাও মেলেনি।

ইম্যানুয়েলার বিষয়ে নানা গুজব হাওয়ায় ভেসেছে। ইম্যানুয়েলার দাদা পিয়েত্রো অর্লান্ডির এখন ৬০ বছর। তিনি বোনকে খুঁজে পাওয়ার আশা ছাড়েননি। গুজব রটেছিল, কেউ একটা জানে ইম্যানুয়েলার কী হয়েছিল। কিন্তু ভয়ে সে মুখ খুলতে পারছে না। কে সে, কেন ভয়, কার ভয়, কী ঘটেছিল ইম্যানুয়েলার সঙ্গে?

সে গুজবকেই যেন উসকে দিতে সম্প্রতি অর্লান্ডি পরিবারের কাছে একটা উড়ো ছবি আসে। যাতে দেখা যায় এক এঞ্জেল ভ্যাটিক্যানের টিউটনিক সমাধিক্ষেত্রের একটি বিশেষ সমাধির দিকে আঙুল তুলে দেখাচ্ছে। বলা হচ্ছে ওই সমাধিতেই রয়েছে কিশোরী ইম্যানুয়েলার দেহ। ভ্যাটিক্যান রেকর্ড ঘেঁটে দেখে ওই সমাধিতে এক প্রিন্সেসকে উনবিংশ শতাব্দীতে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। ভ্যাটিক্যান কর্তৃপক্ষ স্থির করেন, সমাধি খোঁড়া হবে।

ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটারস ব্যাসিলিকার কাছের সেই সমাধিক্ষেত্রে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ। পুরনো লোহার কারুকার্যমণ্ডিত গেটের ভেতরে সার সার পাথরের সমাধি। সেখানে বৃহস্পতিবার দেখা গেল পুলিশ ও ফরেনসিক টিমের সদস্যদের।

প্রচুর সাংবাদিক ও পর্যটকেরাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। ছিলেন ইম্যানুয়েলার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুরা। ‘সত্য আমাদের মুক্ত করে’ আর ‘ওর দেহ কোথায়’ লেখা টি শার্ট পরেছিলেন তাঁরা।

সবার সামনেই খোঁড়া হয় সেই সমাধি। বিভ্রান্তি এড়াতে ওই সমাধির ঠিক পাশের সমাধিটিও খোঁড়া হয়। এই দুটিতে দুই বোন, দুই প্রিন্সেসকে কবর দেওয়া হয়েছিল ১৮৩৬ ও ১৮৪০ সালে। কিন্তু সমাধি খোলার পর যা দেখা গেল তাতে আরও বিভ্রান্তি ও অস্বস্তিতে পড়ে গেল ভ্যাটিক্যান। দেখা গেল, ইম্যানুয়েলা তো দূর, সেই দুই প্রিন্সেসের দেহাংশও নেই। দুটি সমাধিই খালি। ইতালির অর্লান্ডি পরিবারের শেষ আশা যেন মিলিয়ে গেল।

সমাধিতে কোনোকিছু না পাওয়ায় সমাধান হলো না ৩৬ বছরের পুরনো রহস্যের। বরং উল্টে বাড়লো রহস্য। দুই প্রিন্সেসের দেহই বা গেল কোথায়!

পুরনো দুটি সমাধিতে কোনো দেহাবশেষ পাওয়া না গেলেও সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। পরীক্ষার পরই জানা যাবে রহস্য। তবে দেহাবশেষ যেহেতু মেলেনি তাই রহস্য আরো বাড়ল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সঙ্গে অস্বস্তি বাড়ল ভ্যাটিক্যানেরও।

সূত্র : বিবিসি ও দ্য ওয়াল

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ