1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কী? ট্রাম্পের জন্য এটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ কেন?

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২০ Time View

এইতো বছর দুয়েক আগে অর্থাৎ, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়ে গেল। সেই নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যেটিক দলের কমলা হ্যারিসকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসেন। তিনি আরও ২ বছর ক্ষমতায় থাকবেন। তাহলে তার ২ বছরের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রে আবারও নির্বাচন কেন?—এমন প্রশ্ন অনেক পাঠকের মনেই হয়তো ঘুরপাক খায়।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকেই মূলত বিশ্ববাসীর নজর থাকে। এ নিয়ে সারা দুনিয়ায় বেশ হইচইও হয়। তবে দেশটির ‘মধ্যবর্তী’ নির্বাচনের দিকেও নজর রাখেন অনেকে। কেননা, এই নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা আরও ‘বাড়ানো বা কমানোর’ বিষয়ে জনগণের রায় পাওয়া যায়।

তাই নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে ভক্ত-সমর্থকদের ট্রাম্প এমনও বলছেন, ‘ধরে নাও আমিই ব্যালট পেপারে আছি। আমাকেই ভোট দাও।’

অনেকের মনে এমনও প্রশ্ন জাগে—এই নির্বাচনেও ট্রাম্প কেন প্রচারণায় অথবা তিনি কাদের পক্ষে প্রচারণা করছেন?

এক কথায় বলা যায়—রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর ‘মধ্যবর্তী নির্বাচন’ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস বা ‘সংসদ’ নির্বাচন।

রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প আসলে প্রচারণা চালাচ্ছেন কংগ্রেসের সদস্য পদে দাঁড়ানো রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীদের পক্ষে।

পাঠকদের অনেকের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ‘জটিল’ মনে হয়। রাষ্ট্রপতি-শাসিত এই দেশটিতে রাষ্ট্রপতির ব্যাপক ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণের বা তার ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য আইনগতভাবে কংগ্রেস বা ‘সংসদ’কে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ কথা সবাই জানেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট বা সংসদ বা আইনসভার নাম কংগ্রেস। এটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট। নিম্নকক্ষের নাম হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদ ও উচ্চকক্ষের নাম সিনেট।

হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্যকে ‘হাউস সদস্য’ ও সিনেটের সদস্যকে ‘সিনেটর’ বলা হয়।

কংগ্রেসে হাউস সদস্যের সংখ্যা ৪৩৫ ও সিনেটরের সংখ্যা ১০০। দেশটির ৫০ অঙ্গরাজ্য থেকে তারা নির্বাচিত হন। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ‘হাউস সদস্যের’ সংখ্যা নির্ধারণ করা হলেও প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে ২ জন সিনেটর নির্বাচিত হন।

হাউস সদস্যরা নির্বাচিত হন ২ বছরের জন্য ও সিনেটররা নির্বাচিত হন ৬ বছরের জন্য।

সব হাউস সদস্যদের নির্বাচিত করতে প্রতি ২ বছরে একবার ভোটের ব্যবস্থা করা হয়। একই সময়ে সিনেটের ১০০ সদস্যের মধ্যে ৩৩/৩৪ জনকে নির্বাচিত করা হয়। এবারের ভোটে ৩৫ জন সিনেটরকে নির্বাচিত করা হবে।

‘মধ্যবর্তী নির্বাচন’ কবে? মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কারা?

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। সেদিন মার্কিনিরা ভোটের মাধ্যমে তাদের কংগ্রেস সদস্যদের বেছে নেবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় একই সঙ্গে ‘হাউস সদস্য’ ও ‘সিনেটর’দের ফাঁকা আসনগুলোতেও নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ২ বছর পর আবার অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি ক্ষমতা নেওয়ার মাঝামাঝি সময়ে আবারও নির্বাচনের আয়োজন করা হয় বলে এর নাম ‘মিডটার্ম’ বা ‘মধ্যবর্তী’ নির্বাচন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াভিত্তিক অরাজনৈতিক ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইউএস ভোট ফাউন্ডেশন-এর তথ্য বলছে—মধ্যবর্তী নির্বাচন হচ্ছে মূলত ‘কংগ্রেস’ নামে পরিচিত আইনপরিষদের নির্বাচন।

দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যেমন ৪ বছর পরপর হয়, তেমনি মধ্যবর্তী নির্বাচন হয় ২ বছর পরপর।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো মধ্যবর্তী নির্বাচনও যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলে একই সময়ে আয়োজন করা হয়। এই নির্বাচনের প্রার্থিতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়ে যায় নির্বাচনের এক বছর আগেই।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যেমন ২ প্রধান দল রিপাবলিকান পার্টি ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, তেমনি মধ্যবর্তী নির্বাচনেও মূলত এই ২ প্রধান দলের প্রার্থীরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

অনেক ছোট ছোট দলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

‘মধ্যবর্তী নির্বাচন’ ট্রাম্পের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে রিপাবলিকানরা অনেক ক্ষমতাবান। রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প নিজে রিপাবলিকান পার্টির সদস্য। কংগ্রেসের উচ্চ ও নিম্ন কক্ষে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। যুক্তরাষ্ট্রে এমন পরিস্থিতিকে ‘ট্রাইফেক্টা’ বলে। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের আধিপত্য—তথা ক্ষমতার তিন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের জয়জয়কার।

মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ১০০ আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ৫১ আসন প্রয়োজন। বর্তমানে সিনেটে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির ৫৩ সদস্য আছেন। বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য ৪৫ জন।

কংগ্রেসের ৪৩৫ সদস্যের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য একটি দলকে ২১৮ আসনে জিততে হয়। বর্তমানে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সদস্য আছেন ২১৮ জন। বিরোধী ডেমোক্র্যেটিক পার্টির সদস্য সংখ্যা ২১৪ জন। এ ছাড়া, একজন আছেন স্বতন্ত্র।

এমন বাস্তবতায়, ট্রাম্প নিজেকে দেশটির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ভেবে কোনোকিছুর তোয়াক্কা না করেই একক সিদ্ধান্তে দেশ পরিচালনা করছেন।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও শুধু বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের মুখোমুখি হতে না চাওয়া রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প, কংগ্রেসকে পাস কাটিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো নির্বাহী আদেশ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন।

যেমন, কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হলে কংগ্রেসের অনুমতি প্রয়োজন। ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমতি না নিয়েই ইরানে প্রায় ৮ মাস ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি এই যুদ্ধকে ‘যুদ্ধ’ না বলে ‘অভিযান’ শব্দটি ব্যবহার করছেন স্রেফ কংগ্রেসের বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলার জন্য।

এমনকি, ট্রাম্প মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রেখেছেন তার নির্বাহী আদেশে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ