1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কাশিমপুর কারাগারে ১২ আসনের ইলেকট্রিক কার্ট দিল মধুমতি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও ট্রেডউইন্ডের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে মালদ্বীপের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান অসুস্থতা কাটিয়ে কনের সাজে হাজির প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, যাত্রা বিলম্ব বিশ্ব স্ট্রোক দিবসে এভারকেয়ার চট্টগ্রামে পেশেন্ট ফোরাম ও সচেতনতামূলক র‍্যালি ঢাকা দক্ষিণের সাবেক কাউন্সিলর সাঈদের ৭ বছরের কারাদণ্ড রাজশাহীতে বাড়ির ছাদে কৃষককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

প্রয়োজন হলে সামরিক হামলা চালাব : ইরানকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬৩ Time View

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথ খোলা রেখেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টিও বাদ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে একই সঙ্গে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকেই এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ওয়াশিংটন। হেগসেথ বলেছেন, অর্থনৈতিক চাপই এই মুহূর্তে ইরানের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়ালে বা তাদের ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে কোনো পদক্ষেপ নিলে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উইসকনসিনের ওশকশ সফরের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন হেগসেথ। সেখানে প্রতিরক্ষা শিল্পের কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। এসব কর্মীকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বাধীনতার অস্ত্রাগার’-এর অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সামরিক হামলা এখন বন্ধ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, সামরিক অভিযান চালানোর প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তা করবে।

তার ভাষায়, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় বা সীমা ছাড়িয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। হেগসেথ বলেন, অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরানের পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে। তার দাবি, ইরানের অর্থনীতি বড় সংকটের দিকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ।
পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পরিবহনের জন্য এই পথ ব্যবহার করা হয়। হেগসেথের দাবি, ইরান এই প্রণালির মাধ্যমে আগের মতো পণ্য পরিবহন করতে পারছে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহন চালু রাখতে পারছে।

তিনি বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা তৈরি করেছিল। কিন্তু এখন তারা সেই নিয়ন্ত্রণ নিতে পারছে না। ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও কথা বলেন হেগসেথ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ইরানের নৌবাহিনী, নজরদারি ব্যবস্থা, রাডার, লক্ষ্য শনাক্ত করার সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি করেছে। তার দাবি, ইরানের হাতে এখনো কিছু সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। তবে আগের তুলনায় দেশটির সক্ষমতা অনেক কমে গেছে। এ কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তেল সরবরাহ চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন কাজ করছে। হেগসেথ জানান, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে প্রতিরক্ষা বিভাগ।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক চাপ আরো বাড়ানো হলে ইরানের সামনে আলোচনায় বসা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। সেই আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কথা বলতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টও এটাই চান বলে জানান তিনি। এদিকে ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। দেশটির সরকারের মুখপাত্র ফাতেমে মোহাজেরানি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরানের সরকার ও প্রেসিডেন্ট দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করবেন। তিনি বলেন, ইরান অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি অস্বীকার করছে না। তবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দেশের মানুষের ঐক্য ধরে রাখার মাধ্যমে আগের মতো এবারও এই কঠিন পরিস্থিতি পার হয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

এর মধ্যেই সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরুর ঘোষণা দেন। এই অভিযানের লক্ষ্য হিসেবে তিনি বিশ্বজুড়ে ইরানের আর্থিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং ইরান সরকারকে সহায়তা করা অর্থের উৎস বন্ধ করার কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে বেসেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরান ও এর প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করেছে। তার ভাষায়, এই অভিযানের মাধ্যমে ইরান সরকারকে টিকিয়ে রাখার অর্থনৈতিক পথগুলো বন্ধ করা হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনীর ডি-ডে অভিযানের উদাহরণ টেনে বেসেন্ট বলেন, সেই অভিযানের লক্ষ্য ছিল শত্রুকে তাদের অবস্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া। একই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এবার বিশ্বজুড়ে ইরানের আর্থিক যোগাযোগের ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে।

বেসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সামনে এখন দুটি পথ রয়েছে। প্রথমটি হলো বিশ্ব অর্থনীতি থেকে প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে টিকে থাকার মতো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। দ্বিতীয়টি হলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির সঙ্গে আবার যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা। তিনি বলেন, ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর মাধ্যমে ইরান সরকারের সামনে থাকা অন্য অর্থনৈতিক পথগুলো বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ