এডিনসন কাভানি ও নেইমারের অসাধারণ পারফরমেন্সে ঘরের মাঠ পার্ক ডি প্রিন্সেসে বুধবার চ্যাম্পিয়নস লীগে সেলটিককে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেই।
দুই মাস আগে স্কটিশ এই দলটিকে তাদের মাঠে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল ফ্রেঞ্চ জায়ান্টরা। কিন্তু ম্যাচ শুরুর মাত্র ৫৬ সেকেন্ডের মধ্যে মোসা ডেম্বেলে গোল করে শুধুমাত্র সেলটিককে এগিয়ে দেননি, নড়েচড়ে বসার আগে প্যারিসের স্বাগতিকদের স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তবে ম্যাচে এই একটিমাত্র সাফল্য ছাড়া আর কিছুই দেখাতে পরেনি স্কটিশ চ্যাম্পিয়নরা। হঠাৎ করেই এক গোলে পিছিয়ে গিয়ে পিএসজি আক্রমনাত্মক হয়ে উঠে। তারই ধারাবাহিকতায় কাভানি, নেইমার ও কাইলিয়ান এমবাপ্পের গোলে প্রথমার্ধেই পিএসজি ৪-১ গোলের লিড পায়, বিপরীতে ব্রেন্ডন রজার্সের সেলটিক অনেকটাই খোলসের মধ্যে ঢুকে পড়ে। দ্বিতীয়ার্ধেও সমানভাবে নিজেদের স্কোরলাইন বাড়ানোর প্রচেষ্টায় ব্যস্ত ছিল স্বাগতিকরা। ৭৫ মিনিটে মার্কো ভেরাত্তি দলে পক্ষে পঞ্চম গোল করার পরে কাভানি দুর্দান্ত ব্যাক-পোস্ট ভলিতে নিজের চার মিনিট পরে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন। ম্যাচ শেষের ১০ মিনিট আগে ডানি আলভেস ২৫ গজ দুর থেকে জোড়ালো ভলিতে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন।
এই জয়ে গ্রুপ’বি তে তিন দ্বিতীয় স্থানে থাকা বায়ার্ন মিউনিখের থেকে তিন পয়েন্ট এগিয়ে থাকলো পিএসজি। আগামী মাসে জার্মান জায়ান্টদের বিপক্ষে অন্তত ড্র করতে পারলেই গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে শেষ ১৬ নিশ্চিত করতে পারবে উনাই এমেরির শিষ্যরা।
কালকের ম্যাচের শুরুতেই গোল করে সেলটিক প্যারিসের সফরটা স্মরনীয় করে তুলেছিল। আর এই গোলের পিছনে অবদান ছিল ফ্রান্সেরই। ফ্রেঞ্চম্যান অলিবার এনচ্যামের কর্ণার থেকে তারই স্বদেশী ডেম্বেলে দারুন এক গোলে সেলটিককে এগিয়ে দেন। তার এই গোলে পিএসজি গোলরক্ষক আলফোনসে আরেয়োলার তেমন কিছুই করার ছিল না। তাদের এই উচ্ছাস অবশ্য বেশীক্ষণ স্থায়ী হয়নি। নয় মিনিটেই বিশে^র সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় তার নিজস্বতায় স্বাগতিকতের সমতায় ফেরান। আদ্রিয়ের রাবোয়িটের থ্রু পাস থেকে সেলটিক গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডনকে পরাস্ত করতে কোন বেগ পেতে হয়নি নেইমারের। ২২মিনিটে ভেরাত্তির সহায়তায় নেইমার পিএসজিতে লিড এনে দেন। ২৮ মিনিটে নেইমারের পাসে কাভানি দলের পক্ষে তৃতীয় গোল করেন। পিএসজির জার্সি গায়ে এটি ছিল উরুগুয়ের এই তারকার ১৫০তম গোল। বিরতির ১০ মিনিট আগে এমবাপ্পে জোড়ালো ফ্রি-কিক পিএসজেিক ৪-১ গোলে এগিয়ে দেয়। মোনাকো থেকে চলতি মৌষুমে পিএসজিতে আসার পরে এমবাপ্পের এটা সপ্তম গোল।
বিরতির পরে গর্ডনের কারনে এমবাপ্পে দ্বিতীয় গোল পাননি। ৭৫ মিনিটে অবশ্য ভেরাত্তি স্বাগতিক দর্শকদের হতাশ করেননি। ৭৯ মিনিটে ব্যাক-পোস্ট ভলিতে কাভানি নিজের দ্বিতীয় গোল করেন। ম্যাচের শেষ গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা আলভেস। আর এই গোলেই পিএসজির বড় জয় নিশ্চিত হয়।