1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মিমিকে প্রকাশ্যে মঞ্চে হেনস্তা, গ্রেপ্তার সেই যুবক নির্বাচনের পরিবেশ বিগত সরকারের আমলের চেয়ে ভালো : প্রেসসচিব আগামীকালই হবে ৫০তম বিসিএস পরীক্ষা আয়কর রিটার্ন জমার সময় আরো বাড়াল এনবিআর দেশ কোনদিকে যাবে জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করবে: তারেক রহমান যে দেশে চাকরির অনিশ্চয়তা, সেখানে টিকটক করে ডলার কামানো স্বাভাবিক : অর্ষা বিশ্ববাজারে বাড়লো সোনা-তেলের দাম, শেয়ারবাজারে ধস সংঘাতে সঙ্গে জড়িত না এমন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিএনপিতে স্বাগত চাঁদে আঘাত হানতে পারে গ্রহাণু, পৃথিবীতে ভয়াবহ উল্কাবৃষ্টির আশঙ্কা জামায়াতের ইতিবাচক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

‘রাজনৈতিক খেলায়’ বিস্তৃত জঙ্গিরা

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৫
  • ১৩২ Time View

একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ ছিল৷ পরের বছর দেশের ৬৩টি জেলায় যে বোমা হামলা করে জেএমবি সেই জেএমবি-র উত্থানের পেছনেও ছিল রাজনৈতিক মদদ৷ আজ সেই জঙ্গিদের প্রধান টার্গেট ব্লগার ও মুক্তচিন্তার মানুষ৷ ey

বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার প্রথম বড় ঘটনা ২০০১ সালে রমনা বটমূলে পহেলা বৈশাখে ছায়ানটের বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার মধ্য দিয়ে৷ এরপর পল্টনে সিপিবি-র সমাবেশে বোমা হামলা হয়৷ তারও পরে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তখনকার বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশ স্থলে গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত হন৷

এর পরের বছর ১৭ আগস্ট দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালায় জমিয়তুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)৷ জেএমবি-র আরেকটি শাখার নাম জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি)৷ এরপর তারা আদালত এলাকায় হামলা চালিয়ে বিচারক হত্যাসহ আরো হত্যাকাণ্ড ঘটনায়৷

২০০১ এবং ২০০৪ সালের বোমা এবং গ্রেনেড হামলার পরই জানা যায় হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের নাম৷ তার প্রধান মুফতি হান্নান এখন কারাগারে৷ আর জেএমবি ও জেএমজেবি-র দু’জন নেতা শায়খ আব্দুর রহমান এবং বাংলা ভাইকে বিচারক হত্যা মামলায় ফাঁসি দেয়া হয়েছে৷

বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৮ জন আসামি আজও পলাতক৷ সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও মুফতি হান্নানসহ অন্য আসামিরা আছে কারাগারে৷ এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান জানান, ‘‘মামলাটির বিচার কাজ চলছে৷ ডিসেম্বরের মধ্যেই বিচার শেষ হবে বলে আশা৷” তিনি আরো দাবি করেন, ‘‘মামলার তদন্ত এবং সাক্ষ্য প্রমাণে এটা স্পষ্ট যে, জঙ্গিরা তখনকার বিএনপি সরকারের ছত্রছায়ায় গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে৷”

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চলে চরমপন্থি আন্দোলন দমনে তখনকার মন্ত্রী-এমপিদের পৃষ্ঠপোষকতাতেই জেএমবি-র উত্থান৷ তখনকার মন্ত্রী জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী বাংলা ভাইয়ের পক্ষ নেন৷

২০১৩ সালে শাহবাগে গণজাগারণ মঞ্চের আবির্ভাব থেকে জঙ্গিদের নতুন ধরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ হরকাতুল জিহাদ এবং জেএমবি বাদে শোনা যাচ্ছে এক নতুন নাম – আনসারুল্লাহ বাংলা টিম৷ তারা ব্লগার ও মুক্ত চিন্তার মানুষকে হত্যার মিশনে নেমেছে৷ এ পর্যন্ত তারা পাঁচজন ব্লগারকে হত্যা করেছে৷ তারা আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, আনসার বাংলা সেভেন, আনসারুল্লাহ, আনসার বিডি, আনসার আল-ইসলামসহ নানা নামে কাজ করছে৷ পুলিশের দাবি, তাদের প্রধান মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানি কারাগারে থাকলেও সেখানে বসেই নিয়ন্ত্রণ করছেন জঙ্গি কার্যক্রম৷

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘পুলিশের দৃষ্টি এড়ানোর জন্যই ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’ আলাদা আলাদা গ্রুপে বিভক্ত হয়েছে৷ বিভাজিত গ্রুপের কারণে সবাইকে নজরদারির মধ্যে রাখা যাচ্ছে না৷ তাছাড়া এক গ্রুপের সদস্যদের খবর অন্য গ্রুপের কাছে পাওয়া যায় না৷ এমনকি কেউ কারো নামও বলতে চায় না, যা জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে৷”

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরে৷ তিনি ‘‘বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতার উত্থানের পিছনে রাজনৈতিক মদদ ছিল৷ তবে এখন তারা নিজেদের পায়ের নীচে মাটি খুঁজে পেয়েছে৷ তারা আগের চেয়ে এখন আরো শক্তিশালী এবং কৌশলী৷”

তিনি বলেন, ‘‘আগে জঙ্গিরা একটি বিশেষ শ্রেণি থেকে আসত৷ কিন্তু এখন তারা সবখানে ছড়িয়ে গেছে৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক এমনকি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাও জড়িয়ে যাচ্ছেন৷”

তার মতে, ‘‘এখন প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেও জঙ্গি তৎপরতার কল্পিত অভিযোগ আনা হচ্ছে৷ জঙ্গিদের নিয়ে রাজনৈতিক খেলা এখনো থামেনি৷ আর এই খেলার কারণেই জঙ্গিরা আরো শক্তিশালী হচ্ছে৷” নূর খান বলেন, ‘‘জঙ্গিদের নিয়ে রাজনৈতিক খেলা বন্ধ না হলে তারা বিস্তৃত হতেই থাকবে৷”

প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ৬টি জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ সংগঠনগুলো হলো – হরকাতুল জিহাদ, জেএমবি, জেএমজেবি, শাহদাত ই আল-হিকমা, হিজবুত তাহরির এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিম৷ কিন্তু তাতে জঙ্গি তৎপরতা থামার কোনো লক্ষণ নেই৷- ডিডব্লিউ

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ