নিজের লেখা বই নিয়ে দলের মধ্যে সমালোচনার জবাব দিয়েছেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেছেন, পুরো বইটি রিজভী পড়েননি, পড়লে তিনি অনুতপ্ত হবেন।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
গত শনিবার সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে বিএনপির নেতা ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের লেখা ‘বাংলাদেশ: ইমার্জেন্সি অ্যান্ড দ্য আফটারমাথ: ২০০৭-২০০৮’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান হয়।অনুষ্ঠান শেষে মিলনায়তন থেকে বের হওয়ার পর হামলা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. মাহবুবউল্লাহর ওপর।
প্রকাশিত বইয়ে জঙ্গিবাদের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক, ছেলেদের প্রতি খালেদার প্রীতি এবং চারদলীয় জোট সরকারের দুর্নীতির প্রসঙ্গ আসায় এ নিয়ে দলের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়। সোমবার সকালে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে দলছুট ও সুবিধাবাদী রাজনীতিক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টে রিজভীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মওদুদ বলেন, “আমি খুব দুঃখ পেলাম। কারণ, রিজভীকে আমি আমার ছোটো ভাইয়ের মতো মনে করেছি। তার অনেক লেখাপড়া আছে। তাকে অনেক স্নেহ করি। কিন্তু এখন যা শুনছি, তিনি যে মন্তব্য করেছেন, আমি এটাতো তার কাছে আশা করিনি।”
নিজের বই সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি যেখানে ভয় করছিলাম সরকার অসন্তুষ্ট হবে সেখানে দেখছি, আমার একজন সহকর্মী আমার ওপর অসন্তুষ্ট হলেন। তিনি পুরো বইটি পড়লে অনুতপ্ত হবে।”
বাড়ির সঙ্গে বই লেখার কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করে তিনি বলেন, “আমার বাড়ির ব্যাপারে বলবো, বইটা লিখেছি অনেক আগে। আমি রাজনীতি করি। আমি বিরোধী দলের নেতা এবং বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য আজকে আমাকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করার জন্য সরকার একটা প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ প্রক্রিয়া শুরু করেছে ২০১২ সাল থেকে। আর বইটা লেখা হয়েছে ৬/৭ বছর আগে। সুতরাং, এটার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। বাড়ি বা সরকারকে সন্তুষ্ট করার প্রশ্নই উঠে না। আমার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা আছে।”
তিনি বলেন, “বাড়ির মামলা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। বইয়ের কোনো মতামতের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।”
তিনি বলেন, “আমি বইয়ে যা লিখেছি তা অনুসরণ করলে বিএনপিতে যে সংকট চলছে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।”