জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ দাবি করেছেন, তিনি গতকাল রোববার সংসদ ভবনে আলাদাভাবে জাপার সংসদীয় দলের কোনো বৈঠক করেননি। রওশন এরশাদের সভাপতিত্বে সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে কয়েকজন সাংসদ তাঁর কার্যালয়ে এসে দেখা করেছেন। সেটা কোনো সভা ছিল না।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে সাংগঠনিক সফরে ঝালকাঠি রওনা হওয়ার আগে এক বিবৃতিতে এরশাদ এসব কথা বলেন। তার নেতৃত্বে জাপার সংসদীয় দলের আলাদা বৈঠক হয়েছে বলে আজ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি এ বিবৃতি দেন।
বিবৃতিতে এরশাদ এ খবরকে ‘কল্পনাপ্রসূত ও বানোয়াট’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “গতকাল কিছুটা অসুস্থবোধ করায় আমি প্রথমে চেকআপের জন্য সিএমএইচে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফিরে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে বিকেল পাঁচটার দিকে সংসদে যাই। তখন পার্লামেন্টারি পার্টির বৈঠক শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে কয়েকজন সংসদ সদস্য আমার অফিসকক্ষে এসে আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। সেটা কোনো সভা ছিল না।”
এরশাদ বলেন, “আমি এই দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। পার্টির গঠনতান্ত্রিক ক্ষমতাবলে আমি দুজন প্রেসিডিয়াম সদস্যকে অব্যাহতি প্রদান করেছি। এটা করার এখতিয়ার আমার আছে। এতে দলে বিভক্তির কোনো অবকাশ নাই।”
দলের তিন নেতার মন্ত্রিত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে জাপার চেয়ারম্যান বিবৃতিতে বলেন, “এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা পার্টির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম নিতে পারে। দলীয় ফোরামে এ নিয়ে এ পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি।”
এরশাদ বলেন, “মন্ত্রিসভায় জাপার থাকা না-থাকা নিয়ে যদি কোনো ধরনের প্রশ্ন আসে, এ ব্যাপারে একমাত্র প্রেসিডিয়ামই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সুতরাং এ নিয়ে আর কোনো বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।”
প্রসঙ্গত, গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যের পদ থেকে জাপার স্থানীয় সরকারের প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমানা রাঙ্গা ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলামকে অব্যাহতি দেয়া হয়। রোববার জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের সভায় যোগ দেননি এরশাদ, জিয়াউদ্দিন বাবলু ও আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।