জাতীয় নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে ফের দেশের রাজনীতির ময়দান সরগরম হয়ে উঠেছে। বুধবার প্রথম দফার উপজেলা নির্বাচনের ফলাফলে আওয়ামী লীগ হতাশ হলেও বিএনপি’র মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই হতাশাজনক এ ফলাফলের জন্য দায়ী করছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে জনগণ পাশে রয়েছে বলে বিএনপি সফলতা পেয়েছে বলে মনে করছে দলটি। প্রথম পর্যায়ের ফল যাই হোক না কেন উভয় দলই উপজেলার পরবর্তী পর্যায়ের নির্বাচনগুলোতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ব্যাপারে আশাবাদী।
উপজেলার ফলাফল হতাশ করলেও আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, এটা সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থা নয়। দলীয় অনৈক্য ও বিদ্রোহ না হলে নির্বাচনী ফল আরো সন্তোষজনক হতে পারতো। পরবর্তী পর্যায়ে দল ঘুরে দাঁড়াবে। এজন্য পরবর্তী ধাপের নির্বাচনগুলোয় একক প্রার্থী দেওয়ার ওপর অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, বিএনপি ও তাদের মিত্ররা প্রথম দফা উপজেলা নির্বাচনে ভালো করেছে। আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী দিতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। একাধিক প্রার্থী থাকায় অনেক স্থানে অনেক কম ভোট পেয়েও বিএনপি-জামায়াত সমর্থকরা জয়ী হয়েছেন। পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে আমরা নিজেদের প্রমাণ করার চেষ্টা করবো।
একই বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, এটা নির্দলীয় নির্বাচন হওয়ায় প্রার্থীর জয়-পরাজয়ে ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, পারিবারিক প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং গোষ্ঠীগত অবস্থান বিবেচনায় আসে। তাই এ ফলাফলের ওপর রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ নেই। তবে পরবর্তী পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে উপজেলার ফলাফল সম্পর্কে বিএনপি’র শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলেন, নেতা-কর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে উপজেলা নির্বাচন। এই আত্মবিশ্বাসে ভর করে দল দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। প্রথম পর্বের উপজেলা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বিএনপি। পরবর্তী ধাপের নির্বাচনে বিজয়ের ব্যবধান আরো বাড়াতে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু কৌশল।
এ নির্বাচন সম্পর্কে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা বারবার বলে আসছি এই সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের কোনো আস্থা নেই। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে এবং বুধবারের উপজেলা নির্বাচনে ভোট দিয়ে তারা সেটা প্রমাণ করেছেন। নির্বাচনের আগে ও পরে ক্ষমতাসীনরা সারাদেশে যে হত্যা, গুম, নির্যাতন চালিয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনের নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরো বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচনের মাঠে রাখার পেছনে সাবেক এমপি, মন্ত্রী এবং ওইসব এলাকার কেন্দ্রীয় নেতাদের ইন্ধন রয়েছে। এছাড়া ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আঁতাতকারী কিছু নেতাও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হন। বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে অনেক উপজেলায় নিশ্চিত বিজয় হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। বুধবার প্রথম দফা নির্বাচনে সেটা প্রমাণিত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচনী মনিটরিং সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও বিএনপি’র যুগ্ম-মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, সরকারের নানা বাধা উপেক্ষা করেও সাধারণ মানুষ যেভাবে বিএনপি’র প্রতি সমর্থন জানিয়েছে তা অতুলনীয়। তাদের এই সমর্থন নেতা-কর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে। যেসব নেতা-কর্মী নানা কারণে হতাশ ও মনোবল হারিয়ে ফেলেছিল তারা আবারো মনোবল ফিরে পাবে। যার প্রভাব বাকি উপজেলা নির্বাচনগুলোতেও পড়বে।
উপজেলা নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ের ফলাফলে প্রধান দুই দলের ব্যর্থতা-সফলতার কারণ যাই হোক না কেন, পরবর্তী পর্যায়ের সবগুলো নির্বাচনে উভয় দলই একক প্রার্থী দিয়ে জয় নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর।
এদিকে, গতকাল রাতে বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রথম পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি যেসব উপজেলায় পরাজিত হয়েছে তার কারণ দর্শাতে জেলার নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ দিয়েছেন।