দেশে রাজনৈতিক সংকট বিদ্যমান থাকলেও বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোটের সঙ্গে আপাতত সংলাপের চিন্তা করছে না সরকার। সরকার পরিচালনাকারী দল আওয়ামী লীগও এ বিষয়ে এখনই কোনো আলোচনা করতে চাচ্ছে না। আওয়ামী লীগের বৈঠকগুলোতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সংলাপ করার বিষয়ে কোনো এজেন্ডাও থাকছে না। আগামীকাল বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিতব্য আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকেও সরকার বিরোধীদের সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে কোনো এজেন্ডা নেই বলে জানান আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির একজন সদস্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সদস্য জানান, রাজনৈতিক সংকট সমাধানে যে কোনো সময়েই সংলাপ হতে পারে। কিন্তু এখন দেশে রাজনৈতিক সংকট আছে বলে আমরা মনে করি না। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করাই এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দেশকে অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত করতেই সরকার বেশি সময় দিতে চায়।
তাছাড়া আওয়ামী লীগের অপর এক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জানান, রাজনৈতিক সংকট সমাধানের জন্য সংলাপ হতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয় এখনই সংলাপ হচ্ছে না। তাছাড়া সংলাপের জন্য এখন বিএনপিও হয়তো প্রস্তুত নয়। বিএনপি’র এখন সংলাপের চাইতে নিজেদেরকে গোছাতে বেশি সময় দিচ্ছে। সব মিলিয়ে এখনই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ হচ্ছে না।
অপরদিকে, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির অপর সদস্য মজিবর রহমান মজনু জানান, বিএনপি’র সঙ্গে এখনই কোনো সংলাপ হচ্ছে বলে আমার মনে হয় না। তবে বিএনপি চাইলে যে কোনো সময় সংলাপ হতে পারে। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির আগে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন। শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারে অংশ নিতে বিএনপির জন্য স্বরাষ্ট্রসহ ১০টিরও বেশি মন্ত্রণালয় দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে আসতে চায়নি বলে সর্বদলীয় সরকারেও অংশ নেয়নি।
মজিবর রহমান মজনু আরো বলেন, আওয়ামী লীগ যে কোনো সময় সংলাপের জন্য প্রস্তুত। সংলাপের জন্য সরকারের দরজা সব সময়ই খোলা। কিন্তু সাংবিধানিক বিধিবিধানের মধ্যে থেকে বিএনপিকে সংলাপে বসার মানসিকতা থাকতে হবে। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপের পক্ষে ছিলেন বলেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ফোন করে গণভবনে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। কিন্তু তাতে সাড়া দেননি বেগম খালেদা জিয়া। দেশের মানুষের শান্তি চাইলে বিএনপিকে আরো বেশি আন্তরিক হতে হবে বলেও মনে করেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির এ সদস্য।